বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্বকাপ হোক আনন্দের

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২, ০০:৩১

অপেক্ষার প্রহর শেষে শুরু হলো ‘২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ’-এর এবারের আসর। কাতারে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে ৩২টি দেশ। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো বিশ্বকাপের আমেজকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর সব দেশের সব বয়সের মানুষের কাছে ফুটবল যেন একটি অনুভূতির নাম। আর তা যদি হয় বিশ্বকাপের মতো আয়োজন তাহলে তো আর কথাই নেই। 

ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন করে থাকে। এদিক দিয়ে আমরা বাঙালিরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। বরং বলা যায় এই বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের আবেগ, ভালোবাসা, প্রত্যাশা একটু বেশিই। তবে এই প্রত্যাশা, আবেগই যেন অনেক সময় ব্যক্তি জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, বিশ্বকাপ এলেই একটা বিশেষ শ্রেণির উদ্ভব হয়। যাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র খেলা উপভোগ করা নয়। এই খেলাকে কেন্দ্র করে সমর্থনভিত্তিক দল গড়ে উঠে। চলে মোটা অঙ্কের বাজি খেলার আয়োজন। এই বাজি খেলতে গিয়ে অনেকে তাদের সব হারায়। এমনকি সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতও হতে দেখা যায়। খেলার হারজিত নিয়েও অনেক স্থানে ঝামেলা হতে দেখা যায়, যা একেবারেই কাম্য নয়। তবে বাঙালিরা শুধু খেলা দেখা অবধিই নয়, বরং বিশ্বকাপ নিয়ে করে থাকে নানা আয়োজন। কেউ কেউ দেখা যায়, প্রিয় দলের পতাকা দিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা সম্পূর্ণ করে, কেউ-বা পুরো বাড়িই প্রিয় দলের পতাকার আদলে এঁকে ফেলে, কেউ-বা বানিয়ে ফেলে সুদীর্ঘ পতাকা। কিন্তু অতি উত্সাহিত হয়ে পতাকা টাঙাতে গিয়ে অসাবধানতার ফলে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। যেমন কিছুদিন আগেই এক শিক্ষার্থী তার প্রিয় দলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অনেক সময় পতাকা টাঙাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এসব বিষয়ে অবশ্যই সাবধান হতে হবে।

শুধু বাইরের সাজসজ্জাই নয়, এই বিশ্বকাপ জুড়ে চলে রং-বেরঙের জার্সির মেলা। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরিধান করে খেলা উপভোগ করে থাকে। মহল্লায় মহল্লায় অনেকে এক হয়ে বড় স্ক্রিনের আয়োজন করে থাকে এবং সেখানে সবাই একত্রিত হয়ে খেলা দেখে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য! আট থেকে আশি—সব বয়সের সবার উপস্থিতিতে যেন এই আয়োজন একটু বেশিই সুন্দর হয়ে ওঠে। এক কথায়, ফিফা বিশ্বকাপ যেন ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলা। 

মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়ে থাকে সবাইকে আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। তাই যে দলই বিজয়ী হোক না কেন, প্রিয়দলের খেলাকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে তার দিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা যেন এই বিশ্বকাপ উপভোগ করি—এই বিষয়টা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া মহাদেশে এবং প্রথমবারের মতো আরব দেশে অনুষ্ঠিত এ বিশ্বকাপের আয়োজন সফল হোক—এ প্রত্যাশা সতত।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন