শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্প

কাজ শুরুর আগেই হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০১

চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। ক্যাচমেন্ট এরিয়া প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এখন আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো জন্য ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও নতুন টেকনোলজি ব্যবহারের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হবে।

নগরীর হালিশহর এলাকায় স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এখানে ওয়াসার ১৬৩ একর জায়গার উপর স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। কর্মকর্তারা জানান, নগরীকে ছয়টি ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভাগ করে স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তার মধ্যে হালিশহরে প্রথম পর্যায়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার কাজ চলছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে ২০ লাখ লোক পয়োব্যবস্থার সুফল ভোগ করবে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়িত মেয়াদ থাকলেও তা বাড়াতে হবে। প্রকল্পের ছয়টি ক্যাচমেন্ট এরিয়ার মধ্যে রয়েছে হালিশহরে তিনটি ছাড়া বাকি বাকলিয়া হামিদচরে, কালুরঘাট ও ফতেয়াবাদে নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাচমেন্ট-১ এর বাস্তবায়নের জন্য ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও বাকি টাকা দিচ্ছে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। বাকিগুলোতে জাপান, কোরিয়া, ফ্রান্স ও জাইকা স্যুয়ারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করবে। মালয়েশিয়াভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এরিনকো এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। হালিশহর এলাকায় ক্যাচমেন্ট প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। এখন ডিজাইন পরিবর্তন করে হালিশহরের এই জায়গায় তিনটি ক্যাচমেন্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে নির্মাণসামগ্রীর দামও বেড়ে গেছে। ক্যাচমেন্ট এরিয়া-১ ছাড়া বাকিগুলোর ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি চলছে।

ক্যাচমেন্ট-১ প্ল্যান্টে থাকবে ১০ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি সলিড ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) এবং ৩০০ টন ধারণক্ষমতার ফিকেল স্ল্যাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) নামে দুটি শোধনাগার। শোধনাগার নির্মাণে একটি কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান আর পাইপলাইন নির্মাণকাজ করবে দুটি চীনা প্রতিষ্ঠান।

স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের জন্য ২০১৪ সালে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল। তখনকার বাজার দর বিবেচনা করে নির্মাণ সামগ্রীর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন সময়ের ব্যবধানে প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী ও ডলারের দাম বেড়েছে। প্রকল্পের ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনা করে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে। কারিগরি যাচাই-বাছাইয়ে নগরী প্রায় ৩০ শতাংশ এরিয়া স্যুয়ারেজ পাইপলাইনের স্থাপনে অনুপযোগী। এক্ষেত্রে ফিকেল স্লাজ ম্যানেজমেন্টের আওতায় টয়লেটের বর্জ্যসমূহ ভ্যাকুয়াম ট্রাক ও গাড়িতে করে শোধনাগারে নেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ