শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে মাক্কিয়া হোসেন মারিয়ার ‘স্টাইলিশ আবায়া’

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ২৩:১৩

মাক্কিয়া হোসেন মারিয়া। সময়কে সময় দিয়ে হয়ে উঠেছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। অবসর সময়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চিন্তা থেকেই তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা। তার এই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পিছনে নিরলসভাবে সাহায্য করে গেছেন তার পুরো পরিবার। তবে তার এই সফলতার পিছনে ক্রেতাদের উৎসাহ, ভালোবাসা এবং বিশ্বাসও সমানভাবে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।  

মাক্কিয়া হোসেন মারিয়ার ‘স্টাইলিশ আবায়া’ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীদের পছন্দসই আবায়া, বোরখা এবং কাফতান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে, শুরুটা হয়েছিলো বিয়ের পোশাকের কাজ দিয়ে।  "স্টাইলিশ আবায়া"র কয়েকটি আউটলেট ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফ্যাশন প্রেমীদের কাছে। 

ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বনানীতে একটি, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে দুইটি এবং মিরপুরে একটি ও সিলেটে একটি আউটলেট রয়েছে স্টাইলিশ আবায়ার। স্টাইলিশ আবায়ার হেড অফিসও মিরপুরে। তাদের এক একটি আউটলেট ভিন্ন ভিন্ন থিমে সাজানো। 

তবে শুধু দেশেই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে মাক্কিয়া হোসেন মারিয়ার ‘স্টাইলিশ আবায়া’র একটি আউটলেট। সেখানেও সমান জনপ্রিয় স্টাইলিশ আবায়া। মজার ব্যাপার হচ্ছে মারিয়ার জন্ম সৌদিতে আর সেখানকার পোশাক  কালচারের সাথে মারিয়ার কাজ করা পোশাকগুলোর মিল রয়েছে।

মারিয়ার স্বপ্ন ছিলো ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন আউটলেট তৈরি করে নিজের কাজকে দেশ এবং দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা। সেই স্বপ্নের দিকেই একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছেন মাক্কিয়া হোসেন মারিয়া। 

তার কাজে কোনো প্রতিবন্ধকতা আসে নি এমন না, বরং অন্যান্য সব কাজের মতই বারবার বেশ কিছু প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা এবং বাঁধা এসেছে তার উদ্যোক্তা হবার পথে। এই প্রতিবন্ধকতা মারিয়া সহজে কাটিয়ে উঠেছেন স্বামী ও বাবার সাহায্যে। উদ্যোক্তা হবার পথ অনেকটাই যেন সহজ করে দিয়েছিলেন তারা।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে মাক্কিয়া হোসেন মারিয়ার ‘স্টাইলিশ আবায়া’

শুধু মাত্র অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নয়, বরং নিজের কাজে আত্মতৃপ্তি, কাজের প্রতি তার একাগ্রতা, ক্রেতাদের ভালোবাসা ও তার প্রতি একরাশ বিশ্বাস মারিয়ার কাজকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে এসেছে। উদ্যোক্তা হতে গেলে সব থেকে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। সফল উদ্যোক্তা হবার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের পণ্যকে সঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে বলে মনে করেন মারিয়া। 

উদ্যোক্তা হবার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও করে দিয়েছেন। স্টাইলিশ আবায়া একটি পরিবার হয়ে উঠেছে মারিয়ার কাছে এবং প্রতিনিয়ত তিনি বেশ কিছু বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করে থাকেন যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।  
নিজেকে ব্যস্ত রাখার প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু হয়েছিলো "স্টাইলিশ আবায়া"র পথচলা। সেখান থেকে স্টাইলিশ আবায়া এখন অনেক বড় পরিসরে দেশে বিদেশে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। 

কাজের পুরস্কার হিসেবে এওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু সব মানুষের নিরন্তর ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে তিনি সব থেকে বড় পুরস্কার হিসেবে মনে করেন।
মাক্কিয়া হোসেন মারিয়ার কাছে সফলতার পরিমাপ জানতে চাইলে তিনি বলেন সব মানুষ সঠিকভাবে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ পেলে তিনি নিজেকে এবং সব উদ্যোক্তাদের সফল বলে মনে করবেন।

উদ্যোক্তা হিসেবে মারিয়ার পথ চলা কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় নি। তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিতও নন। সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস এবং কৃতজ্ঞতা নিয়েই ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চান মারিয়া। সকলের দোয়া ও ভালোবাসা তার কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি