বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিড়ম্বনামুক্ত হোক নারীর চলার পথ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০০:২০

টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে তিন নম্বর রয়েছে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা এবং সব বয়সের ও সব লিঙ্গের মানুষের কল্যাণে কাজ করা। অর্থাৎ সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। মানতে হবে, এই লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে বিরাট প্রতিবন্ধকতা। তা হলো অপর্যাপ্ত ও অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট। কর্মব্যস্ত মানুষের প্রয়োজন মেটাতে চলতি পথে পাবলিক টয়লেট দরকার পড়ে। কিন্তু বর্তমান সময়ে জনসংখ্যার তুলনায় পাবলিক টয়লেটের বেশ অভাব রয়েছে। আবার যেগুলো আছে তাও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় সব সময় অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন থাকে। এমনকি দুর্গন্ধে সেগুলো থাকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার অনুপযোগী। এই চিত্র তো বেশ সাংঘাতিক! বিশেষ করে নারী বা মেয়েদের জন্য এসব টয়লেট ব্যবহার করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। উপরন্তু, টয়লেট সুবিধার অভাবে নির্দিষ্ট সময় ধরে তাদেরকে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে থাকতে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে নারীদের শরীরে নানা রকম রোগব্যাধি বাসা বাঁধার সুযোগ পায়।

আমরা সবাই কমবেশি অবগত আছি, রাজধানীতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সের কর্মজীবী নারী রাস্তায় বের হন। কিন্তু সত্যি বলতে, তাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়নি। যাদের দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, চলতি পথে তারাই যদি নিরাপদ শৌচাগার ব্যবহার করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তো তা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়! বাস্তবিক অর্থে, এই চিত্র নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে চরম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

বছর চারেক আগে বেসরকারি সংস্থা ওয়াটার এইড-এর এক জরিপে বলা হয়, ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন ৫০ লাখের বেশি মানুষ চলাচল করে। অথচ এই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ৪৯টি পাবলিক টয়লেট। এই হিসাবে, প্রতি লাখ জনসংখ্যার জন্য একটিরও কম টয়লেট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরুষদের মধ্যে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য। আবার ভাসমান মহিলা কর্মী বা শ্রমিকরা বাধ্য হয় দীর্ঘ সময় ধরে শৌচকার্য করা থেকে বিরত থাকতে। যার কারণে তাদের শরীরে বাসা বাঁধে মারাত্মক রোগজীবাণুর। এমতাবস্থায় নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেটর প্রয়োজনীয়তাকে কোনো ভাবেই পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। 

উল্লেখ করার মতো বিষয়, স্যানিটেশনের প্রশ্নে দেশ অনকে দূর এগিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সচেতন হয়ে উঠেছে বাংলার নারীসমাজ। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব টয়লেট নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ কথা যেমন সত্য, তেমনি নারীবান্ধব টয়লেট নিশ্চিত করতে আমরা পিছিয়ে আছি, এ অভিযোগকেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বস্তুত, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলাসহ আমাদের সচেতনতার ঘাটতি আছে। মনে রাখতে হবে, আমরা এমন এক সচেতনতার যুগে বাস করছি, যেখানে নিজে যেমন দায়িত্ব নিয়ে চলতে হবে, একইভাবে অন্যকে দায়িত্ব পালনে সচেতন করে তুলতে হবে। মোটকথা, পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি, টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু পরিবশেবান্ধব টয়লেট নয়, বরং নারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। 

লেখক : শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন