শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শরীয়তপুর পৌরবাস টার্মিনাল

ধারণ ক্ষমতা নেই বাস টার্মিনালে, যানজট সড়কজুড়ে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৫১

শরীয়তপুর পৌরবাস টার্মিনালটি ছোট হওয়ায় কমে গিয়েছে এর ধারণ ক্ষমতা। এ কারণে সড়কের ওপর থেকেই গাড়িতে ওঠাতে হয় যাত্রী। এর ফলে শহরের সড়কে প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা।

শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে শরীয়তপুর জেলার ভেতরে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন সড়কের ওপরেই বাস রেখে যাত্রী ওঠানামা করা হতো। ওই সময়ের বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ তালুকদার ও তার ভাই ফরিদ আহম্মেদ তালুকদার বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বাঘিয়া ও চরপালং এলাকায় শরীয়তপুর পৌরসভাকে এক একর জমি দান করেন। ১৯৯৮ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ সেই জমিতে বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরপর ২০১০ সালে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করে বাস টার্মিনালের যাত্রা শুরু করে পৌরসভা।

ছবি: ইত্তেফাক

চলতি বছরের ২৫ জুন পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পূর্ব পর্যন্ত ওই টার্মিনাল থেকে জেলার সকল উপজেলা, মাদারীপুর, খুলনা, বেনাপোল ও সাতক্ষিরায় বাস চলাচল করতো। পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পর ঢাকা-শরীয়তপুরে বাস চলাচল শুরু হয়। এই রুট দিয়ে জেলার অন্তত ২৫ হাজার যাত্রী প্রতিদিন ওই টার্মিনাল দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। বর্তমানে সাড়ে তিনশ বাস বিভিন্ন গন্তব্যে চলছে।

এক একর জমিতে নির্মাণ করা বাস টার্মিনালে ৫০টি বাস রাখার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে অন্য বাসগুলো শহরের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং সদরের প্রেমতলায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে রাখা হয়।

ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস বাসের চালক শাহাদাৎ হোসেন বলেন, টার্মিনালে কোন বাস রাখা যাচ্ছে না। সেখানে পুরাতন কিছু বাস রেখে আটকে রাখা হয়েছে। ঢাকা যাতায়াতের সকল বাস রাস্তার মধ্যে রেখে যাত্রী তোলা হয়। এ কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

ছবি: ইত্তেফাক

সড়কের অটো চালক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের ওপরে বাস রাখা হয়। এ কারণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট হয়। আমাদের ছোট একটি জেলা শহর। এমন যানজটের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত নই। অনেক দুর্ভোগ নিয়ে চলছি।

শরীয়তপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, আমাদের পরিবারের দেওয়া জমিতে ছোট একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর এখন পরিবহন ব্যবসা অনেক সম্প্রসারণ হয়েছে। ওই টার্মিনালে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। যাত্রীদের সঙ্গে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। বড় একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য অনেকবার পৌরসভাকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোন সারা পাচ্ছি না।

শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, শহরের বাইরে পৌর এলাকার মধ্যে বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জমি ক্রয় করার ফান্ড না থাকায় উদ্যোগটি তরান্বিত হচ্ছে না। জমি ব্যবস্থা হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রকল্পে বড় টার্মিনাল নির্মাণ করা যাবে।

ইত্তেফাক/এমএএম