বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ই-স্পোর্টস : সুযোগ নিতে পারি আমরাও

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০০:২৯

ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টস হচ্ছে একধরনের প্রতিযোগিতা, যেখানে বাস্তব খেলার পরিবর্তে অনলাইন গেমগুলোর প্রতিযোগিতা হয়। আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা আছে যে, সব ধরনের ভিডিও গেমই ই-স্পোর্টসের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কেউ যদি বসে বসে মোবাইল ফোনে ক্যান্ডি ক্রাশ গেম খেলে, তাহলে সেটাকে  ই-স্পোর্টস বলা চলে না। ই-স্পোর্টস হচ্ছে ফুটবল, ক্রিকেটের মতোই একধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলা। কোনো ভিডিও গেমকে ই-স্পোর্টসের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। প্রথমত, গেমটিকে প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে, অর্থাৎ একজন খেলোয়াড় অন্য এক বা একাধিক খেলোয়াড়কে হারানোর জন্য খেলবে; দ্বিতীয়ত, গেইমটির অফিশিয়াল স্বীকৃত টুর্নামেন্ট থাকতে হবে।

বিশ্বব্যাপী ই-স্পোর্টসের জনপ্রিয়তা ও মার্কেট ভ্যালু দিনদিন বেড়েই চলেছে। ২০২১ সালে বিশ্বে এটির বাজার ভ্যালু ছিল ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাজারটি ২০২২ সালে ১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন থেকে ২০২৯ সাল নাগাদ ৫ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতি বছর বৃদ্ধির হার প্রায় ২১ শতাংশ। 

বাংলাদেশেও ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রি ধীরে ধীরে বিকশিত হওয়া শুরু করেছে। ই-স্পোর্টস আর্নিং ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৭৩ জন ই-স্পোর্টস প্লেয়ার ৬৯টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে মোট ২,০৩,২৮৩ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার পুরস্কার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছে প্লেয়ার আননোনস ব্যাটেলগ্রাউন্ডস মোবাইল গেম থেকে—১,০৮,৬০৮ দশমিক ৩৬ ডলার, যা বাংলাদেশের ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়দের সমস্ত উপার্জনের  ৫৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এসব তথ্য থেকে খুব সহজেই অনুমেয় যে, ই-স্পোর্ট ইন্ডাস্ট্রি কয়েক বছরের মধ্যে খেলাধুলার শীর্ষ টুর্নামেন্টগুলোর একটা হবে। ইতিমধ্যে এটি ২০২২ এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, পাশাপাশি কমনওয়েলথ গেমসেও অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা করা হচ্ছে।

ই-স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখানে ডেভেলপার, থ্রিডি এনিমেটর, ভিডিও এডিটর, স্টোরিটেলার, অর্গানাইজার, ব্রডকাস্টার, কাস্টার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন দক্ষতার প্রয়োগ করা সম্ভব এবং এসব ক্ষেত্রে রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার হাতছানি। ভিডিও মেকিং, স্ট্রিমিং, সরাসরি ধারাভাষ্য করে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, প্রতিযোগিতামূলক গেমের মধ্য দিয়ে দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। দ্রুত পরিকল্পনা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এসব গেম খেলে। তাই এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশের বেকারত্বের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আউটসোর্সিংয়ের মতোই ই-স্পোর্টস অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। নারীদেরও ঘরে বসে উপার্জনে ই-স্পোর্টস অন্য যে কোনো ক্ষেত্রের চেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিও ঘরে বসে ই-স্পোর্টসের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

জাপান এ বছরের এপ্রিলে তাদের প্রথম গেমিংকেন্দ্রিক উচ্চবিদ্যালয় খুলতে যাচ্ছে। আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-স্পোর্টস সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রোগ্রাম রয়েছে। অথচ আমাদের দেশে গেমারদের বাঁকা চোখে দেখা হয়, জুয়া খেলা মনে করা হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতোই এ দেশের যুককদের জন্য ই-স্পোর্টস একটি সম্ভাবনাময় পেশা হতে পারে। ইতিমধ্যে এ দেশে কিছু ই-স্পোর্টস কমিউনিটি গড়ে উঠেছে, যারা এটিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছে। তবে এতটুকুতেই থেমে থাকলে চলবে না। সুতরাং, দরকার সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। বাংলাদেশে যদি ই-স্পোর্টসের একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো দাঁড় করানো যায়, আশা করা যায় আমাদের অর্থনীতির জন্য তা বিরাট সুফল বয়ে আনবে।

এ কথা সত্য, ই-স্পোর্টসের কিছু নেতিবাচক দিক আছে। অতিরিক্ত গেম বা ই-স্পোর্টসে অধিক সময় ব্যয় করাটা নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি ই-স্পোর্টসে আসক্ত হয়ে পড়লে তা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে পারলে ই-স্পোর্টস আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন