ক্যাম্পাস হোক নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:১৮

বিশ্ববিদ্যালয় হবে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব। থাকবে না কোলাহল, যানবাহনের ঝঞ্ঝাট কিংবা বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ। এমনটাই কাম্য। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকাটাও একান্তই জরুরি। কিন্তু দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে আমরা কী দেখছি? এই চিত্রের ঠিক বিপরীত দৃশ্য! সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাড়ি দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দেয়, ক্যাম্পাসের পরিবেশ কতটা অবনতির পথে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বড় বড় সড়ক। প্রতিদিন হাজারো যানবাহনের চলাচল এই সড়কে। নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো চেকপোস্ট। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে পারাপার হচ্ছে এসব সড়কে। যে কোনো মুহূর্তে গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন শিক্ষার্থীরা—এই দাবিকে কি উড়িয়ে দেওয়া যায়? যেই ক্যাম্পাস প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর বিচরণস্থল, তার মধ্য দিয়ে সর্বসাধারণের চলাচলের সড়ক-মহাসড়ক কীভাবে বয়ে যেতে পারে? ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের বিকল্প পন্থা হিসেবে কেন ঢাবির ক্যাম্পাসকেই বলি দিতে হবে? এতে কি আদৌ ঢাকার যানজট নিরসন হয়েছে? উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি ক্যাম্পাসের মধ্যে দিয়ে ‘ট্রানজিট’ দেওয়া হয়ও, তবে তো প্রথমেই উন্নত বিশ্বের মতো সড়ক পরিবহন আইন ও তার প্রয়োগ, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা ভাবার কথা? কিন্তু, এসব বিষয় কি কর্তৃপক্ষের চিন্তায় আছে বা ছিল? আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এসব নিশ্চিত না করেই ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে পরিবহনের ব্যবস্থা করা শিক্ষার্থীদের জীবনকে যানবাহনের নিচে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার শামিল। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীর মৃত্যুহার বেড়ে চলেছে, তাতে করে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে গণপরিবহনের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়াটা বিচক্ষণতার পরিচায়ক হতে পারে না কোনোভাবেই।

প্রতিদিন হাজারো বহিরাগত এসে ভিড় জমায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের গ্যারেজে পরিণত হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। উপরন্তু, বহিরাগতদের ফটোশুট ও টিকটক ভিডিও তৈরির দৌরাত্ম্যে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যারপরনাই অরক্ষিত-অসহায়। বহিরাগতদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দাপটে ব্যাহত ব্যাপকভাবে হয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ। এভাবে কি চলতে পারে? শতবর্ষ পেরোনো দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের ক্যাম্পাসের এহেন বেহাল দশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এমন ভয়াবহ চিত্র দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার নাজুক দশা, অসহনীয় পরিবেশ—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস যেন ‘অকেজো’ হয়ে পড়েছে।  ক্যাম্পাসে আজ বহিরাগত দুর্ঘটনার শিকার হলেন, কাল হয়তো ঝরবে কোনো শিক্ষার্থীর তাজা প্রাণ। এই যখন অবস্থা, তখন শিক্ষার্থীর রক্তে ক্যাম্পাস লাল হওয়ার আগেই এই চিত্রের যবনিকা পতন ঘটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অতি সত্বর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। সুতরাং, আরো দেরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিক হতে হবে। সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট দিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জনসাধারণকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল টিমকে চিন্তাভাবনা করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, বহিরাগতদের উন্মত্ততা সত্যিই শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য গভীর উদ্বেগের-শঙ্কার। এসব বন্ধ না করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়বেই। এতে পিছিয়ে পড়বে শিক্ষার্থী, পিছিয়ে পড়বে শিক্ষাব্যবস্থা। এমতাবস্থায়, সমস্যা সমাধানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন