হুইল চেয়ারের জন্য প্রতিবন্ধী রাসেলের মায়ের আকুতি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৩:৪০

দরিদ্রের ঘরে জন্ম নেওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেলের কপালে জোটেনি একটি ভাতার কার্ড। জোটেনি একটি হুইল চেয়ার কেনার মত টাকা। এখন কাঠের লাঠিই তার একমাত্র ভরসা। 

অভাব অনটনে বেড়ে ওঠা রাসেল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কালিগঙ্গা নদীর তীরবর্তী উত্তর জামশা গ্রামের দিনমজুর  মো. ওমর আলীর ছেলে।

জানা যায়, ১২ বছর আগে গর্ভাবস্থায় রাসেলের দুই পা ও কোমর অকেজো হয়ে পরে। এরপর থেকে সে পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  সে আরও পঙ্গু হয়ে যায়। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা দেয়া যায়নি। রাসেলের দুটো পায়ে কোনো বোধশক্তি নেই। কাঠের লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরা করতে হয়।

রাসেলের বাবা ওমর আলী বলেন, ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা করিয়ে ভালো করতে পারেনি। ইট ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে পারিশ্রমিক পাই তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। তাও আবার ছয় মাস কাজ থাকে না। সপ্তাহে ৫০০ টাকা পায়। চাল কিনলে অন্য কিছু কেনার টাকা থাকে না। এই দিয়ে বৃদ্ধ মা এবং স্ত্রী সন্তান নিয়ে চলাই কষ্ট।

রাসেলের মা নাছিমা আক্তার বলেন, পঙ্গু ছেলের লেখাপড়া করার ইচ্ছে শক্তি থাকলেও গ্রামে তিন কিলোমিটারের মধ্য কোনো স্কুল নেই। তাই দূরের রাস্তা তার স্কুলে যাওয়া সম্ভব না। আমার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও তার কপালে ভাতা বা একটি  হুইল চেয়ার জোটেনি। বাড়ি বাড়ি থেকে সাহায্য নিয়ে তার চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু সে টাকায় চিকিৎসা হয় না।

তিনি বলেন, কেউ আমাদের খবর রাখে না। চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা শুধু ভোটের সময় আশ্বাস দিয়ে যান। এরপর আর খোঁজ খবর রাখেন না কেউ।

ইত্তেফাক/আরএজে