ইত্তেফাক তরুণদের প্রতিভা বিকাশের মাধ্যম

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৭

তরুণরা আগামী দিনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তরুণদের অন্তরে সদা জাগ্রত থাকে দুর্বার স্পৃহা। তারুণ্য একটি প্রবল প্রাণশক্তি। যা অফুরন্ত সম্ভাবনা ও বর্ণিল স্বপ্নে উজ্জীবিত থাকে সবসময়। একটি স্ফুলিঙ্গ তারুণ্যকে উদ্দীপ্ত শিখায় পরিণত করতে পারে। যা হয়ে উঠতে পারে নক্ষত্রের মতো সমুজ্জ্বল। তারুণ্যের এই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বলতা প্রকাশ পায় তাদের প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে। ঠিক এই জায়গাতেই বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ভাবনা কী, দেশের তরুণ ছেলে-মেয়েরা কী ভাবছে কিংবা সমাজের নানা বিষয়ে তরুণদের মতামত কী? এর সবটায় খুঁজে পাওয়া যায় দৈনিক ইত্তেফাকের পাতায় পাতায়। ইত্তেফাক যেন আগামী দিনের গবেষণা সমৃদ্ধ প্রাবন্ধিক ও লেখক তৈরির আঁতুড়ঘর।

আমি নিজেও দৈনিক ইত্তেফাকের একজন পাঠক এবং তরুণ লেখক। দেশ ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে তরুণ সমাজের ভাবনা ও চিন্তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইত্তেফাকে স্থান পায়। যা কৃতজ্ঞ করেছে দেশের তরুণসমাজকে। এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে—দৈনিক ইত্তেফাক তরুণদের মতামতকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। পত্রিকা বা টেলিভিশন বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন বা একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেখানে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের কোনো সুযোগ থাকে না। প্রচলিত এই ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মাধ্যমে সত্যিই লেখার আগ্রহ জন্মায়। নতুন কোনো বিষয় নিয়ে লেখার উত্সাহ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। কথায় আছে, ‘আমরা তখনই লিখি যখন অনুপ্রেরণা পাই’—এই কথাটি বিখ্যাত ব্যক্তি পিটার ডি ভ্রিজ বলেছিলেন। ইত্তেফাক লেখা প্রকাশের পাশাপাশি এই অনুপ্রেরণা দেওয়ার কাজটিই করে যাচ্ছে। ফলে দেশের অসংখ্য তরুণ লেখকের ভাবনা প্রতিনিয়ত ইত্তেফাক পৌঁছে দিচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। সচেতনতামূলক লেখা পড়ে পাঠকরা সচেতন হচ্ছেন—এ কথা বলাই যায়। তরুণদের তারুণ্য যে কোনো দেশের প্রধান সম্পদ। আজকের তরুণরাই আগামী বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। যত যোগ্য ও দক্ষ তরুণ তৈরি হবে ততই আগামী দিনের বাংলাদেশ তথা বিশ্ব সুন্দর হয়ে গড়ে উঠবে। কিন্তু স্বদেশের দিকে তাকালে আমরা অনেক সময় হতাশার ছাপ পাই। তরুণ লেখকদের প্রতি যথেষ্ট যত্ন ও উত্সাহের অভাবে বহু তরুণ লেখক অকালে ঝরে যাচ্ছে। দৈনিক ইত্তেফাকের দায়িত্বশীল ভূমিকা সেই জায়গা থেকে তরুণদের বের করে নিয়ে আসছে। আগামী দিনেও এই ধারা চলমান থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

৭০ বছরের দীর্ঘ সময় সাক্ষী বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য পত্রিকা ইত্তেফাক। ইত্তেফাক এ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন জাতীয় দৈনিক। যার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৩ সাল থেকে। অবিভক্ত পাকিস্তান আমল থেকে পত্রিকাটির পথচলা শুরু। অর্থাত্ বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির ছোট-বড় প্রায় সব ঘটনার সাক্ষী এই পত্রিকা। কোনো একটি দেশের জাতীয় দৈনিক সেই দেশের প্রতিচ্ছবি। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি ইত্তেফাক। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়—এর সরাসরি অংশীদার ইত্তেফাক।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ইত্তেফাক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। কালের পরিক্রমায় প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা ইত্তেফাক। তাদের সত্য প্রকাশে নির্ভীকতা এবং সাহসিকতার গল্প দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বদুয়ারে। বাংলার সব গৌরবগাথা অর্জন ইত্তেফাকের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাবে বিশ্বের কাছে। দেশ-জাতির উন্নয়নে এবং দেশের কল্যাণে চলতে থাকুক এই স্বপ্নযাত্রা। ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমনটায় প্রত্যাশা করি। শুভ হোক ইত্তেফাকের পথচলা।

লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন