জৌলুসপূর্ণ বিপিএলের একাল-সেকাল 

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০৪

২০১২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত হয় দেশের ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। বিশ্বব্যাপী চলমান ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে খেলার মান, সুযোগ-সুবিধা, আয়োজনের দিক বিবেচনায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর পরের অবস্থানটা ছিল বিপিএলের। কালের পরিক্রমায় কেমন সংকুচিত চেহারা নিয়ে নিচ্ছে বিপিএল। তারকা বিদেশি ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি ও অত্যাধুনিক আয়োজন সুবিধার অভাবে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাকচিক্য এখন মলিন হয়ে এসেছে। 

বিশ্ব ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ হচ্ছে একটা পণ্য এবং সেই পণ্যের বাজারজাতকরণে পিছিয়ে পড়েছে (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) বিসিবি। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে দুর্বলতা প্রকাশ আর ভেজালে ভরা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অনুমতি দেওয়ায় বিসিবিকে মাশুলও গুনতে হয়েছে। ২০১৩ সালের আসরে ফিক্সিং দায় পরের আসরকে করেছে পণ্ড। এসব সীমাবদ্ধতা বাধ্য করেছে বিপিএলের আর্থিক কাঠামোকে সংকুচিত করতে। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি। আয়োজনে আধুনিক সুব্যবস্থার অভাব ও আম্পায়ারিং বিপিএলকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৩-এর নবম আসরে এক ডিআরএস নিয়েই তো কত হাঙ্গামা! ডিআরএসের সরঞ্জাম থাকার পরেও চালানোর মতো বিশেষজ্ঞ না পাওয়ায় বিপিএল কুড়িয়েছে ‘বকেয়া প্রিমিয়ার লীগ’, ‘বিতর্ক প্রিমিয়ার লীগ’ ইত্যাদি খেতাব। এসব খেতাব মূলত সমালোচকেরাই দিয়েছেন। তবে এখন ব্যক্তিগত আড্ডায় বিসিবির কোনো বড়কর্তাও যদি বলে দেন বিপিএল আসলে ‘বাংলাদেশ পেইন লীগ’, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।   বিপিএল আয়োজনের অনেক পর ক্যারিবীয়দের সিপিএল, পাকিস্তানে পিএসএল, ইংল্যান্ডে দ্য হান্ড্রেড, শ্রীলংকায় এলপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ ২০, আরব আমিরাতে আই লীগ টুয়েন্টি এসেছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে আজ আমাদের আকাশপাতাল তফাত। অন্য দেশের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগগুলো নিয়মিত মাঠে গড়ালেও বিপিএল নিয়মিত মাঠে গড়ায়নি। অন্য লিগে হোম এবং অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেললেও বিপিএল কেবল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে খোলস বন্দি। কেবল রংপুর রাইডার্সের নিজস্ব হোম ভেন্যু আছে আর বিপিএলের বাকি দলগুলোর কারো নিজস্ব হোম ভেন্যু নেই। অথচ ৯০০ কোটির বিসিবির থেকে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের পিএসএলের সব টিমেরই নিজস্ব হোম ভেন্যু আছে। বিপিএল মানেই যেন চরম অনিশ্চয়তা। এ বছর যে ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, পরের বার তাদের দেখা যাবে কি না, তা কেউ জানে না। এ কারণেই এখন পর্যন্ত ৯টি আসরে মোট ২৭ জন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এসেছেন! ২০১৯ সাল থেকে নেই রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। 

এক সময় বিপিএল খেলতে অন্যে দেশের বড় তারকারা মুখিয়ে থাকত। আর বর্তমান বাস্তবতায় বিপিএলের মান তলানিতে যাওয়ায় কেউ বিপিএল ক্রিকেটে মুখ তুলে চায় না। তারকা বিদেশি ক্রিকেটাররা অন্য লিগগুলোকে প্রাধান্য দেয়। তাছাড়া বিপিএলের সম্প্রচারের মান তো যাচ্ছে-তাই। প্রথম দুটি আসরে স্টার স্পোর্টস দায়িত্ব ছিল বলে বেশ মানসম্মত সম্প্রচার পেয়েছে বিশ্ব। এখন ভারতীয় প্রথম সারির ক্রিকেট চ্যানেলগুলো বিপিএল সম্প্রচার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ব্র্যান্ড ভেল্যুতে বিপিএল এতটাই পিছিয়েছে যে, বিপিএল টেলিকাস্টে বিদেশি চ্যানেলগুলোর আগ্রহ কম।

গোটা পৃথিবীতে এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ছড়াছড়ি। এমন বাস্তবতায় বিপিএলকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এবং মানসম্মত টেকসই পরিকল্পনা। তবেই বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আবারও আমাদের মধ্যে ফিরবে পুরোনো রূপে এবং ভিত্তি হবে জাতীয় দল গড়ার।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন