ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের অনেক সাফল্য রয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি পর্যাপ্ত সমর্থনও রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মাথায় রাখতে হবে ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে এবং তাদের যথেষ্ট জনসমর্থন রয়েছে। সন্ত্রাস দমন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের বেশ সাফল্যও রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে আন্দোলন নিয়ে কুগেলম্যানের সঙ্গে এক বৈঠকে আলাপ করেন মার্ক গোল্ডবার্গ। ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে তাদের সেই আলাপচারিতা প্রকাশিত হয়। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে কুগেলম্যান বলেন, উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের অর্জন আসলে গোটা অঞ্চলেই অনুকরণীয়। ‘তাদের উন্নয়ন এখন বৈশ্বিক এক সাফল্যের গল্প।’
কুগেলম্যান বলেন, যদি কেউ দাবি করে বাংলাদেশে খারাপ কিছু হচ্ছে, জবাবে শুধু এটাই বলা যায় যে এর বিপরীতে সরকারের যথেষ্ট সাফল্যও রয়েছে এবং জনগণের তাদের সমর্থন করার কারণও রয়েছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানির ঊর্ধ্বগতি কারণে (বাংলাদেশ) সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে।
কুগেলম্যান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় এক ধাক্কা। আর এই সুযোগেই বিরোধীদল রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে।
তিনি জানান, বাংলোদেশের দুর্নীতির চিত্র ও অর্থনৈতিক খাতের অনিয়মত বিরোধী দলগুলোর জন্য আরেকটি সুযোগ। এই বিষয়গুলো নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দল। তবে এই আন্দোলন আসলে গণ আন্দোলন নয়, বরং দলীয় রাজনৈতিক আন্দোলন।
পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, সরকারের সামনে সুযোগ ছিল যে এই অস্থায়ী সমস্যাগুলো যে বহির্বিশ্বের অস্থিরতার প্রভাবে হয়েছে সেই কারণগুলো তুলে ধরার।
কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাস দমনে সাফল্য দেখিয়েছে। সিরিজ হামলার শিকার একটি দেশের জন্য এটা খুবই জরুরি ছিল।। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কঠোর হাতে সন্ত্রাস দমন করেছে। এবং বিগত বছরগুলোতে সন্ত্রাসবাদ এখন আর দেশটিতে বড় সমস্যা নয়। এটা সত্যিই এক নতুন সাফল্যের গল্প জন্ম দিয়েছে।
তার পর্যবেক্ষণ, বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন আরও বড় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি মেনে চলে বাংলাদেশ।
মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে কুগেলম্যান বলেন, বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস একটু দেখা প্রয়োজন। অতীতে বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতা ছিল তখনও এমন গুম ও দমনের অভিযোগ ছিল। এখন যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার অনেক কিছুই সেসময়ও ঘটেছে।
আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে। বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু রাস্তা খোলা আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি স্থিতিশীল।
এছাড়া বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
