শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীলতা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০৭

প্রত্যেক সন্তান তার পিতামাতার কাছে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদস্বরূপ। জন্মের পর থেকেই পিতামাতা ও পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ সন্তানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। পিতা-মাতার আদর, স্নেহ ও ভালোবাসার মাধ্যমেই সন্তানের বিকাশ সাধিত হয়। সঠিক পরিচর্যা ও সুষ্ঠু সামাজিকতার শিক্ষা শিশুর মনোজগেক আলোড়িত করে সমাজকাঙ্ক্ষিত মানুষে পরিণত করে। আর সামাজিক ও মানবিক এসব গুণ অর্জনে পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের সুষ্ঠু ও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার মনোভাব এবং কাজের মাধ্যমেই  এর বহিঃপ্রকাশ ঘটানো সম্ভব। 

সাধারণত একজন জন্মদাত্রী মা তার সন্তানের সঙ্গেই তার জীবন অতিবাহিত করেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও পরিলক্ষিত হয়। যেমন : বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, অকালমৃত্যু, চাকরিসূত্রে বাইরে থাকা প্রভৃতি। পিতা-মাতার সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ছন্দপতনের প্রভাব শিশুর মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে তার আচরণগত দিকেও পরিবর্তনের সূচনা ঘটায়। কারণ, শিশুরা কীভাবে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তা সাধারণত গড়ে ওঠে পারিবারিক পরিবেশ এবং অন্যান্য সদস্যদের আচরণের প্রতিফলনস্বরূপ। এমন কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুদের মাত্রাতিরিক্ত শাসন কিংবা তাদের কোনো কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এসব নেতিবাচক কাজের ফলে শিশুর মনে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এসব স্বেচ্ছাচারী আচরণ শিশুর মানসিক বিকাশকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। তারা কোনো কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে একটা সময় শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব, আগ্রহহীনতার মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। এজন্য সন্তানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আচরণের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। 

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ৯টি কৌশল গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে। যার মধ্যে সক্রিয় শ্রোতা, প্রতিফলিত শ্রবণ, স্পষ্টভাবে কথা বলা, ঘুষ এড়িয়ে চলা, অনুভূতির ব্যাখ্যা, সচেতনভাবে লক্ষ করার জন্য ভাষার ব্যবহার, একসঙ্গে মজা করা, আচরণের দিকে মনোনিবেশ করা, দৃষ্টান্তের প্রতি মনোনিবেশ করার মতো বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। ইউনেসকোর গবেষণায় আরো দেখানো হয়েছে, সন্তানের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণগত ভিন্নতা প্রকাশ পায়। তাই এ সময় পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে বাবা-মায়ের উপরিউক্ত দিকগুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া আবশ্যক। প্রত্যেক বাবা-মাকে মনে রাখতে হবে যে, শিশুরা কৌতূহলী। তারা নতুন এই পৃথিবীকে জানতে চায়, বুঝতে চায়। তাই বাবা-মাকে সন্তানের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ স্থাপন করে চলতে হবে। সন্তানের সঙ্গে গল্প করা, সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার মতো বিষয়গুলোর চর্চা বাড়াতে হবে। এতে করে তাদের মধ্যকার সংকোচবোধ কমে আসবে এবং তারা যে কোনো কাজের আগে পিতা-মাতার থেকে পরামর্শ নেওয়ার তাড়না বোধ করবে। আর এর ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি তারা ধাবিত হবে না। তাছাড়া, শিশুর মধ্যে সততা, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বাবা-মাকে সন্তানদের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত, যেগুলো সন্তানের শোভন জীবন নিশ্চিত পালন করা সম্ভব। মোট কথা, সন্তানের সঙ্গে পিতামাতার সঠিক যোগাযোগ স্থাপনের ফলেই কেবল একজন শিশু পরিবার, ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন