বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সামান্য কেটে সুফল হবে না, দাবি স্থানীয়দের

এবার ভাঙন রোধে যমুনায় চর খনন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:০০

অব্যাহত নদী ভাঙন ঠেকাতে সিরাজগঞ্জের বিপর্যস্ত এনায়েতপুর ও পূর্ব শাহজাদপুর এলাকা রক্ষায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনে প্রথমবারের মতো যমুনায় চর খনন কাজ শুরু হয়েছে। উত্তোলিত বালু ফেলা হচ্ছে পশ্চিম পাড়ে ডান তীরে। তবে এ প্রকল্পের সুবিধা হতে বাদ পড়েছে চৌহালীর এনায়েতপুর স্পার বাঁধ হতে পাকড়তলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকা। তাই এখানে চলমান ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে নদীতে জেগে ওঠা ১ কিলোমিটার প্রস্থের চরের মাত্র ১০০ মিটার কেটে তৈরি নতুন গতিপথও বালুতে ভরে যাবে বলে ধারণা স্থানীয়দের। তারা দাবি করছেন, পরিকল্পিতভাবে পুরো মাঝের চর অপসারণসহ তা বাড়িয়ে ৬ কিলোমিটার লম্বা করে খননের। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে খনন প্রকল্প সম্প্রসারণে এলাকাবাসীকে লিখিতভাবে জানানোর কথা বলেছে।

স্থানীয়রা জানান, কৈজুরী ইউনিয়নের মোনাকষা, পাঁচিল হতে উত্তরে জালালপুরে ভেকা, পাকড়তলা, খুকনীর আড়কান্দি, ব্রাক্ষণগ্রাম ও চৌহালীর এনায়েতপুর পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার যমুনার ভাঙনে বিপর্যস্ত। গত সাত বছরে অন্তত ৫ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ হাজার হাজার একর আবাদি জমি ভেঙে গেছে। ভাঙন রোধে গত বছর ৬৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বন্যার আগে পশ্চিম পাড়ের ডান তীরে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। তবে তাতে তেমন কাজ হয়নি। যমুনার পূর্ব পাড়ের মাঝখানে চর জেগে ওঠায় নদীর পানি পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ভাঙন বাড়ছে। তাই পূর্ব পাড় চর দিয়ে নদীর নতুন গতিপথ সৃষ্টিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় হাইড্রোলিক কাটার সেকশন ড্রেজার দিয়ে চর কাটা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু আবার ভাঙন রোধে পাইপ দিয়ে পশ্চিম পাড় নদীর ডানতীরে ফেলা হচ্ছে। এমন উদ্যোগে বেশ উচ্ছ্বসিত মোনাকষা ও চর পাঁচিল গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে চর পাঁচিল গ্রামের ফটিক আলী ফকির, সাবেক মেম্বর আব্দুস সালাম, রশিদ শেখ জানান, দেরিতে হলেও ভাঙন ঠেকাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনে ড্রেজিং ও উত্তোলিত বালু তীরে ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশার মুখ দেখছি। আমরা চাই তীর সংরক্ষণে যে বড় প্রকল্পের কাজ ছয়-সাত মাস ধরে বন্ধ আছে তা দ্রুত শুরু করা হোক।

ড্রেজিং বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের ম্যানেজার অপারেশন মো. আলম মিয়া জানান, বিশাল চরের মধ্যে আমাদের যেটুকু কেটে অপসারণের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আশা করছি আগামী বন্যার আগেই আমরা কাজ শেষ করতে পারব। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য খনন কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী ভাবে এলাকা রক্ষায় ৬৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ গত বছর শুরু হয়। এটা আবার পুরোদমে চলবে। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যে আমরা অনেকটাই সুফল পাবো।

ইত্তেফাক/এমএএম