বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বরিশালে ইউএনও’র উপর হামলার অভিযোগ ৯ জন আটক

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:২৪

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশায় ফসলি জমিতে পানি সেচ ও নির্গমনের জন্য নালার (ড্রেন) জমি উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। 

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঘট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলসহ চকলেট বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
  
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিসের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ফোস নিয়ে উপস্থিত হই। দেখতে পাই একটি নালার জায়গা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের হয়ে কিছু লোক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সরকারি লোকজনের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরীরেও ইট-পাটকেলের আঘাত লাগে। আবার ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির ছাদ থেকে চকলেট বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা হয়। 

তিনি আরও বলেন, পরিস্থতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থল থেকে দুই ভাইসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়। যাদের মধ্যে ৭ জনই মাধবপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের সবাই যে পরিবারটি সরকারি কাজে বাঁধা দিচ্ছিলো। তাদের হয়ে ঘটনাস্থলে আসে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। 

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত ফাতিমা জানান, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আরজী কালিকাপুর গ্রামের আনুমানিক ৫০ একর ফসলি জমিতে ৩০ জন কৃষক পরিবার ৬০ বছর ধরে চাষাবাদের কাজ করে আসছে। ঐ ফসলি মাঠের আবদ্ধ পানি সাবেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিমের বাড়ির পাশে একটি নালা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে যায়। কিন্তু সেই নালা ভরাট করে ফেলায় ফসলি মাঠের আবাদী জমি জলাবদ্ধ হয়ে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে উপজেলা কৃষি অফিসার, বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা পরিদর্শন করেন। এবং ভরাটকারী পরিবার ও কৃষকদের সঙ্গে কলা বলে নালাটি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নিয়মানুযায়ী জনস্বার্থে সোমবার নালাটি উদ্ধারে গেলে তাতে বাঁধা প্রদান করেন আব্দুল হালিমের পরিবারের সদস্যরা। এসময় তারা বহিরাগত কিছু লোক নিয়ে হামলা করে। দলবদ্ধ লোকজন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চকলেট বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। আটককৃদের মধ্যে দুই জনকে তিন মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিরাগত বাকি ৭ জন শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের বয়স বিবেচনা করে মুচলেকা দিয়ে চেয়ারম্যান ও পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
 
তবে পাল্টা অভিযোগ করেছেন সাবেক উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন ইউনিয়ন নির্বাচনে বর্তমান ইউপি সদস্য মোসলে উদ্দিনের বিরোধীতা করায় আমার বাড়ির উপর দিয়ে ফসলী জমির পানি নিস্কাশনের নালা নির্মাণ করাচ্ছেন। আমি ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৪২ শতক জমির ওপরে গত ৫ বছর আগে বাড়ি তৈরি করি। আমার জমি ব্যতিত পাশের অন্যত্র অব্যবহৃত জমি থেকেও ঐ পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলেও ইউপি সদস্যদের ইন্ধনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের ভিটাবাড়ি নষ্ট করে নালা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। অথচ মেম্বারের কথামতো আমাদের পরিবারের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/পিও