ঝালকাঠিতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, আহত ১০

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯:০৪

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো এবং যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা দাবিতে ঝালকাঠিতে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশি বাধা, আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 
 
আহতদের মধ্যে গুরুতর সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য লুৎফর রহমান মোল্লা (৪৫), নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শেখ লাভলু (৪২) ও কেওড়া ইউনিয়নের শ্রমিকদলের সভাপতি মাহাতাব হোসেন (৪০) ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (৫০) স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

এদের মধ্যে নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্মসম্পাদক শেখ লাভলুকে কুপিয়ে ও কেওড়া ইউনিয়নে শ্রমিক দলের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার দাবি করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ, গাবখান-ধানসিঁড়ি ও কেওড়া ইউনিয়নে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নবগ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশ বাধা দিয়ে ব্যানার কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরদার সাফায়েত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান খান।

হামলায় আহত বিএনপির নেতাকার্মীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: ইত্তেফাক

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কুপিয়ে ও হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মীদের আহত করেছেন। পুলিশ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে এটা ন্যাক্কারজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক, নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নজরুর ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বিএনপির কিছু দুষ্কৃতিকারী আমাদের ইউনিয়নে বিশৃঙ্খলা করছিলো। এলাকার শান্তিকামী মানুষ তাতে বাধা দেয়। এতে দুই একজন আহত হতে পারে।’

ঝালকাঠি সদর থানার এসআই আরেফিন বলেন, ‘নবগ্রামে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কর্মসূচির নামে সড়কে বিশৃঙ্খলা করছিলো। এতে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হয়। আমরা পথচারীদের অনুরোধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেই।’

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ঝালকাঠি সদর থানার আওতাধীন নবগ্রাম ও নথুল্লাবাদে ছোটখাটো কিছু বিষয়ের খবর পেয়েছি। এছাড়া কেওড়া ও গাবখান-ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’ 

ইত্তেফাক/পিও