লাউয়াছড়া অতিক্রমের সময় ট্রেনের গতি কমানোর দাবি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৫:০০

জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানটি বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র। এই বনের মধ্য দিয়ে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ও একটি আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়ক চালু রয়েছে। অধিক রেল ও যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কপথে ও ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বন্যপ্রাণী মারা যাচ্ছে ও আহত হচ্ছে। জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় ট্রেনসমূহের গতি ২০ কিলোমিটার করার দাবি জানিয়েছে মৌলভীবাজারস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। 

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া বনের মাঝখান দিয়ে রেলপথে প্রায়শই বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বনাঞ্চল এলাকায় ট্রেনের গতি ২০-৩০ কিলোমিটারে রাখার বিষয়ে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে চিঠি পাঠান মৌলভীবাজারস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এই পত্রের বরাত দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তী লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুরোধে ট্রেনের গতিসীমা ২০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গত ২৫ জানুয়ারি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পত্র সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া বনের মধ্য দিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়ক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা-সিলেট রেলপথ চালু রয়েছে। রেলপথ দিয়ে প্রতিদিনই অনেকগুলো ট্রেন চলাচল করে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ট্রেনসমূহের গতি সব সময়ই বেশি থাকার ফলে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রায়ই বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘটে ও আহত হয়। বিগত পাঁচ বছরে ৩৫টি বন্যপ্রাণী রেলপথে দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং অসংখ্য বন্যপ্রাণী আহত হয়েছে। রাত্রিকালীন রেলপথ পারাপারের সময় ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বন্যপ্রাণী হতাহতের ঘটনা বেশি হয়ে থাকে। তাছাড়া উদ্যানের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে ট্রেন চলাচলের সময় ট্রেনের বিকট শব্দে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, প্রজনন ও চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যানে বন্যপ্রাণীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ইকোসিস্টেম বিঘ্নিত হয়ে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। জাতীয় উদ্যানের অনন্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার্থে সব রেলের গতিসীমা ২০ কিলোমিটারের মধ্যে করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগী বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চিঠি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০০৬-০৭ সালে ওয়াইন্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, দেহরাদুনে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার ওপর পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন ‘রাজাজী ন্যাশনাল পার্ক’ পরিদর্শন করি। সেখানে ট্রেন চলাচলের সময় গতিসীমা সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার রাখা হয়। পার্কের মধ্যে থেমে থেমে ও ধীরগতিতে হাতি, বাঘ, হনুমান, বানর, হরিণ প্রভৃতি প্রাণির জীবন রক্ষার্থে যাত্রীবাহী ট্রেনকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে চলতে দেখি। সেই আলোকে লাউয়াছড়া উদ্যানেও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুরোধে ট্রেনের গতিসীমা ২০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখার দাবি জানিয়েছি।’

 

ইত্তেফাক/ইআ