বইমেলায় আশিক রেজার কবিতার বই ‘ভেড়া ও ভয়তন্ত্র’

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪২

মানুষ ও রাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এক করুন মানচিত্র আশিক রেজার ‘ভেড়া ও ভয়তন্ত্র’। ৭১টি কবিতায় মোড়ানো কাব্যগ্রন্থে সমকালীন সংকট ও ভয়ের সংস্কৃতির মুখোশ উন্মোচন করেছেন কবি। বইটি প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনি। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলার ২২ নম্বর প্যাভিলিয়নে। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। 

ভেড়া, শুয়োর, ভয়, অন্ধকার, ভাত, স্বপ্ন, সময় ও রক্তের প্রকাশে উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, রাজনীতি-সংস্কৃতি সংলগ্নতার মিশেলে প্রতিটি কবিতা হয়ে উঠেছে স্বতন্ত্র। 

কবিতার শরীরজুড়ে ভয়ের আবেশ। কোনো মানবিক বিকার নয়, স্রেফ রাজনীতি ও রাষ্ট্রের অসংলগ্ন মিলন থেকে উপজাত এক বিশেষ ভয়। বিশেষ উৎপাদ। এ ভয় আজ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কবির রাজনৈতিক দায় ফুটে উঠেছে কবিতার পরতে পরতে। 

‘উপকথার পরের কথা’ কবিতায় কবি লিখেছেন- 
     ভাগাড়ে সুশাসন কেমনতর? 
     ‘সু-রই সুশাসন, পশুদের নয়।’ 
দুঃশাসনের কবলে পড়ে জনগণের উপস্থিতি কবির ভাষায় হয়ে উঠেছে ভেড়াসদৃশ। শ্লেষ প্রকাশে মোক্ষম শব্দের সন্ধানে নিবিষ্ট কবি বুকের অভিধান থেকে বের আনেন ‘শুয়োর’ নামক বিশেষ্য। 

কবি বলছেন- 
     ‘শুয়োররা গতকাল ভুলে আর্জি জুড়েছে হত্যা মামলার
     মামলা, হামলা, অনুকম্পা, হুঙ্কারে স্থির ভেড়াদল’ 

রাষ্ট্র মানুষকে রেখেছে আজ দৌড়ের ওপরে। এমন রাষ্ট্রে সংক্ষুব্ধ কবি হয়েছেন হুইসেলব্লোয়ার। মানুষ ও রাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এক করুন মানচিত্র হলো ভেড়া ও ভয়তন্ত্র' । 

বুজি কবিতায় বিবৃত- 
     ‘গুম হয়ে যাচ্ছে কথা বলা মুখ
     রাষ্ট্র দখলে নিচ্ছে অসংখ্য ইতর’। 

কবিতাসমগ্রে কবির উত্থান ঘটে এক প্রতিনিধিত্বশীল সত্ত্বা হিসেবে। শত মানুষের অব্যক্ত কণ্ঠের প্রতিভূ হয়ে উঠেছেন তিনি। কবি পাঠকদের এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন কদাকার রাষ্ট্রে শিল্প, সাহিত্য বা সংস্কৃতি চর্চা কী কোনো ফলদায়ক ব্যাপার? 

বাঙাল জনম-২ কবিতায় তিনি লিখেছেন- 
     ‘শুদ্ধ শব্দ নয়, সংগীত নয়
     সমস্ত মনন মৃত
     রফিক আজাদ থেকে রায়-গুণাকর
     বাঙালের কবি আজ-
     সত্য শুধু থালা ভর্তি ভাতের মিনার।’

ইত্তেফাক/পিও