শুরু হয়েছে ফাল্গুন মাস। বিদায় নিতে শুরু করেছে শীত ঋতু। শীতের এই বিদায়লগ্নে বসন্তের আগমনে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সমুদ্রসৈকত। এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও আগত অতিথি পাখির কিচিরমিচির শুনতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সের ভ্রমণপিপাসুরা।
স্থানীয় পর্যটকদের ভাষ্যমতে, বসন্তের এ সময়টাতে ইউরোপ, সাইবেরিয়া, এশিয়ার কিছু অঞ্চল এবং হিমালয়ের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে তুলনামূলক কম শীতের বাংলাদেশে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় চলে আসে এই অতিথি পাখিরা। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ও সমুদ্রসৈকত মুখরিত হয় অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের অন্তর্গত সোনারচর সমুদ্রসৈকত অতিথি পাখিদের দখলে। অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে আনন্দিত আগত পর্যটকরাও। মন ভরে উপভোগ করছেন পাখির ওড়াউড়ি, কলকাকলি আর কিচিরমিচির ডাক। দর্শনার্থীদের অনেকে পাখির অবাধ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দল বেঁধে পানিতে ভেসে চলার ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দর্শনার্থীরা কাছে যেতেই ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির শব্দে উড়তে শুরু করে আকাশে। তবে সকাল ও বিকালবেলায় দেখা মেলে এসব অতিথি পাখির।
সোনারচর সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা দীপা বলেন, ‘নয়নাভিরাম সোনারচর ঘুরতে এসে বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখি দেখলাম। অতিথি পাখি দেখে আনন্দে মনটা ভরে গেল। তাছাড়া সন্ধ্যায় রক্তিম সূর্য দেখতে পারলে আরও ভালো লাগত। তবে আমি মনে করি, সামাজিক সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সৃষ্টিতে পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় আরও বেশি পাখির আগমন ঘটবে।’ সেই সঙ্গে এলাকাটি সুস্থ বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলেও জানান তিনি।
চর মোন্তাজ রেঞ্জের সোনারচর বিট কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সোনারচরে দিনদিন অতিথি পাখির আগমন বাড়ছে। বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুক, কানা বক, সরালি, মাছরাঙা, গাংচিলসহ অসংখ্য অতিথি পাখি আসছে। এসব অতিথি পাখি প্রকৃতির অলংকার। এ অলংকার ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য পাখির বিচরণক্ষেত্র রক্ষা করতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি।’
চর মোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে সামসুদ্দিন বলেন, সোনারচর সমুদ্রসৈকতের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকার পর্যটকদের আগমন ঘটে। এখন সোনারচর বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। এ অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় বন বিভাগকেও এসব পাখি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেছি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের উপজেলার অন্তর্গত সোনারচরটি অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকত। যেখানে রয়েছে ভ্রমণপিপাসুদের মনের খোরাক। পর্যটকদের ভ্রমণ উপযোগী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোনারচরের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
