কিয়ারা সিদ্ধার্থের বিয়ের ফ্যাশন

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১:৫১

উপমহাদেশের নারীদের স্বপ্নই ছিল টুকটুকে লাল শাড়ি পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসার। তখনকার দিনে কনেদের বিয়ের পোশাকে প্রথম পছন্দ থাকত লাল রঙ। কিন্তু, সময়ের পালাবদলে এই প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। রঙে যেমন, একইভাবে পরিবর্তন এসেছে পোশাকের ধরনে। শাড়ির পরিবর্তে এখন কনেরা পছন্দ করছেন নানা নকশার লেহেঙ্গা। রঙেও থাকছে বৈচিত্র্য। এই প্রবণতা বলিউডের নববধূদের মাঝেও দেখা গেছে।

সম্প্রতি তো  রাজস্থানের জয়সলমেরের সূর্যগড় প্রাসাদে গাঁটছড়া বাঁধলেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। কিয়ারা আদভানি মানেই যেন স্নিগ্ধতার পরশ। তার বিয়ের প্রতিটা লুকই জমকালো ভাব ছাপিয়ে স্নিগ্ধ আমেজই চোখে পড়ছে সবার।  সংগীত থেকে রিসিপশন পর্যন্ত প্রত্যেকটি পোশাক, সাজ সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

মেহেদী রাতে মানে, গায়ে হলুদের জন্য কিয়ারা বেছে নিয়েছিলেন ক্লাসিক অফ-হোয়াইট চিকেনের লেহঙ্গার সঙ্গে গোল্ডেন বর্ডার। পুরো লেহেঙ্গা জুড়েই মুক্তোর কাজ। রত্নখচিত ব্লাউজও দামি সোওয়াভাস্কি ক্রিস্টালস বসানোর সাথে মুক্তোর কাজ রয়েছে ব্লাউজে। হলুদ-গোল্ডেনের নেটের দোপাট্টাতে ছিল হ্যান্ড এমব্রয়ডারি করা। গয়না হিসেবে পরেছিলেন কুন্দনের নেকলেস ম্যাচিং কানের দুল। কিয়ারার সাথে টেক্কা দিয়ে সিদ্ধার্থ পরেছিলেন হলুদ রঙা পাঠানি কুর্তা  আর কাশ্মিরী শাল।

সংগীত অনুষ্ঠানে কিয়ারা পড়েছিলেন সোনালি রঙের একটি লেহেঙ্গা। সোনালি রঙের সেই লেহেঙ্গাটির গা জুড়ে চুমকি ও জরির কারুকাজ ছিল। এই লেহঙ্গাটির সম্পূর্ণ নকশা করতে সময় লেগেছে প্রায় ৪ হাজার ঘণ্টা। লেহেঙ্গাটি দূর থেকে দেখলে বোঝা যাবে তাতে ছিল সোনালি আর রুপালি রঙের অভিনব ‘এফেক্ট’। কখনো মনে হবে লেহেঙ্গাটির ম্যাট  সোনালি, কখনো আবার মনে হবে লেহেঙ্গা জুড়ে রুপালি চুমকির কারুকাজ। আর এই এফেক্টটি তৈরি করতে ৯৮ হাজার স্বরস্কি পাথরের ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল কিয়ারার লেহেঙ্গাই নয়, গয়নাতেও ছিল চমক। সংগীতের  দিনেও কিয়ারার গলায় হীরের হারটি নজর কেড়েছে সবার। হীরের নেকপিসের মধ্যে রুবির পেন্ডেন্টটি ছিল বিশেষ আকর্ষণের। সিদ্ধার্থও একটি কালো, সোনালি এবং সাদা এমব্রয়ডারি করা মখমলের শেরওয়ানি পরেছিলেন।

বিয়েতে হালকা গোলাপি রঙের পোশাকে সেজেছিলেন  কিয়ারা। নিজের জন্য প্যাস্টেল শেডের লেহেঙ্গাই পছন্দ করেছিলেন তিনি। সোনালি রুপালি চুমকির কারুকাজ আর সামান্য সবজে আভাই ছিল বৈশিষ্ট্য। মাথার ওড়নার বর্ডারে ছিল গাঢ় গোলাপি রঙের সরু পাড়ের উপর সোনালি কারুকাজ। ডিপ নেকের ব্লাউজ জুড়ে ছিল ভরা সিক্যুইনের কাজ। লেহেঙ্গার চোখজুড়ানো সূক্ষ্ম কারুকাজে ছিল রোমান স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা। পোশাকজুড়ে ব্যবহার করা হয়েছে সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল। সবুজ পান্না আর হীরের নেকলেস ছিল গলায়। নেকলেসটি ছিল একেবারে রাজকীয়। টিকলি, কানের ঝোলানো দুল, গলার চোকার ঘরানার জমকালো হার আর হাতের চুড়ি—সবকিছুতেই ডিজাইনে ছিল আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের দারুণ মিশেল। এতে ব্যবহূত হীরাগুলো বিশেষভাবে হাতেকাটা আর বিশাল পান্নাগুলো জাম্বিয়া থেকে আনা। হাতে পড়েছিলেন গোলাপি চুড়ি ও হিরের বালা। বর বেশে সুদর্শন সিদ্ধার্থও নজর কেড়েছেন। সূক্ষ্ম কাজের সোনালি শেডের শেরওয়ানির সঙ্গে পরেছিলেন ম্যাচিং পায়জামা আর দারুণ এক পাগড়ি। আইভরি এমব্রয়ডারি, সোনা রঙের জারদৌজি আর তারের ‘বাদলা’ কাজ রয়েছে শেরওয়ানিতে।  সাথে সোনার পাতের উপরে আনকাট হীরা বসানো পোলকি ঘরানার হার ও ব্রেসলেট পরেছিলেন।

মুম্বাই রিসেপশনে কিয়ারার পরনে ছিল একটি সাদা-কালো গাউন আর হীরের গয়না। রিসেপশনে ম্যাচিং কালো রঙের পোশাক বেছে নিয়েছিলেন। আইভরি রঙের টপের সঙ্গে কালো মার্মেড কাটিং গাউনে ধরা দেন তিনি। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ ঝলমলে কালো মখমলে ব্লেজার, ম্যাচিং প্যান্ট এবং একটি টার্টলনেক টি-শার্ট পরেছিলেন। ম্যাচিং রিং সহ হীরে  ও পান্নার নেকলেস, চড়া মেকআপ এবং মাথায় খোপা বেঁধেছিলেন।

কুন্দন, সোনা কিংবা প্ল্যাটিনাম নয়, বিয়ের প্রতিটি সাজের সঙ্গেই কিয়ারা পরেছিলেন হীরের গয়না। আর বর-কনে দুজনের পোশাক ও গয়না ডিজাইন করেছেন মানীষ মালহোত্রা। 

ইত্তেফাক/এআই