উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন মঙ্গলবার পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরো শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে তার দেশের বিজ্ঞানীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার কেসিএনএ কিমের বরাতে আরো জানায়, কিম পারমাণবিক অস্ত্র ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে তার পারমাণবিক অস্ত্র যে কোনো সময় এবং যে কোনো জায়গায় ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপের আগমনকে সামনে রেখে এ আহ্বান জানালেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। এর আগেও বেশ কয়েকবার তিনি অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। উত্তর কোরিয়ার এ শাসক কিম জন উন আরো বলেন, আমাদের পারমাণবিক শক্তির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক শক্তিকে শক্তিশালী করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। গত বছর থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়ানো নিয়ে তোড়জোড় চালাচ্ছে পিয়ংইয়ং। গত বছর এবং চলতি বছরের শুরুতেই রেকর্ড পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণ করে দেশটি। উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের এই মহড়াকে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে কিম প্রশাসন। এদিকে সোমবার উত্তর কোরিয়া আবারও দুটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে। মিসাইল ছোড়ার কথা নিশ্চিত করে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। সিউল ও ওয়াশিংটনের পাঁচ বছরের মধ্যে বৃহত্তম সামরিক মহড়া চালানোর কয়েক দিন পরেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করে দেশটি। উত্তর কোরিয়া সব সময়ই ঐ অঞ্চলে সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রাসন বলেও অভিহিত করেছে কিম জং উন প্রশাসন।
