দিনাজপুরে লোহার খনি আবিষ্কার

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২১:২০

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গিয়াছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দীর্ঘ দুই মাস ধরিয়া কূপ খনন করিয়া অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই খনির সন্ধান পাইয়াছে। জিএসবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী এইখানে রহিয়াছে উন্নত মানের লোহার ম্যাগনেটাইট বা আকরিক। লোহার পাশাপাশি খনিটিতে রহিয়াছে মূল্যবান কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়াম। ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট হইতে ১ হাজার ৭৫০ ফুটের মধ্যে লোহার এই স্তরটি খুঁজিয়া পাওয়া গিয়াছে, যাহার আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। এই খনিটিতে ৫০ হইতে ৬০ কোটি টন লোহাসহ মূল্যবান অন্যান্য পদার্থ রহিয়াছে। আশার কথা হইল, বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গিয়াছে, সেগুলির অধিকাংশ লোহার গুণগত মান ৫০ শতাংশের নিচে। তবে এই খনিতে লোহার মান ৬০ শতাংশের উপরে।

দিনাজপুর একটি খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা। এই অঞ্চলে কয়লা উত্তোলনের কাজ চলিতেছে বহুদিন ধরিয়া। সেই কয়লা দ্বারা চলিতেছে বিদ্যুেকন্দ্র। আশা করা হইতেছে, এবার লোহা উত্তোলনও শুরু হইবে শীঘ্রই। ইহাতে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হইবে। কর্মসংস্থান হইবে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু প্রশ্ন হইল, এই লোহা উত্তোলন বাণিজ্যিকভাবে কতটা লাভজনক হইবে? জিএসবির এক কর্মকর্তা বলিয়াছেন যে, সরকারের সহায়তা পাইলে তাহারা এই খনি হইতে লোহাসহ অন্যন্য গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ উত্তোলন করিতে পারিবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত পাঁচ বর্গকিলোমিটার জুড়িয়া লোহার আকরিক থাকিলে তাহা উত্তোলন করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। সেই দিক দিয়া এক নূতন সম্ভাবনা আমাদের হাতছানি দিয়া ডাকিতেছে নিঃসন্দেহে। তবে লোহার প্রকৃত মজুত সম্পর্কে জানিতে যথাযথভাবে ড্রিলিং করা প্রয়োজন। এই ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মাসুমা চৌধুরীর বক্তব্য হইল, ‘যে কোনো খনি থেকে আকরিক আহরণের আগে কত মজুত আছে, সেটার আকার কত, সে বিষয়ে ড্রিলিং ছাড়াও আরো কয়েক ধাপের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাইতে হয়। এছাড়া খনিজ আহরণের ব্যয় এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার চাহিদা ও দামের তুলনা করার পরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ এভাবে বিশ্লেষণ করিলে বলিতে হয়, দিনাজপুরের এই লোহা খনির বর্তমান পরিস্থিতি এখনো প্রাথমিক অবস্থাতেই রহিয়াছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে করা জিওফিজিক্যাল সার্ভে হইতে যে তথ্য পাওয়া গেল তাহার গুরুত্বও আমরা অস্বীকার করি না। কেননা এই অঞ্চলে ৬০ কোটি বত্সর আগে সমুদ্র ছিল। সেই কারণে এইখানে জমাটবাঁধা আদি শিলার ভিতরে লোহার আকরিকের সন্ধান পাওয়াটা অস্বাভাবিক নহে। আরো আশাবাদের বিষয় হইল, যেইখানে ড্রিলিং করা হইতেছে সেখানকার পুরুত্ব অনেক। তবে প্রকৃত মজুত জানিতে প্রয়োজনে আরো ড্রিলিং করিতে হইবে। আশা করা যায়, দিনাজপুরে এই সদ্য আবিষ্কৃত লোহার খনিটি খননের জন্য টেকসই হইবে এবং বাংলাদেশের জন্য এক নূতন সম্ভাবনার দিগন্ত প্রসারিত করিবে।