সিলেটে অঘোষিত লোডশেডিং, মন্ত্রী বলছেন ‌‘সংকট নেই’ 

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:৫৪

কয়েকদিন থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত বৃহত্তর সিলেটের চার জেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট চলছে। রোববার আছরের পর থেকে ইফতারের পর পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বিভাগীয় নগরী সিলেটের অবস্থা চরমে। বলতে গেলে অঘোষিত লোডশেডিং চলছে। অসহ্য গরমে ত্রাহী অবস্থা। একদিকে রমজান অন্যদিকে অসহ্য গরমের মধ্যে বিদ্যুতের অভাব কি যে দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রোববার (১৬ এপ্রিল) পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান শান্তিগঞ্জের একটি অনুষ্টানে বলেছেন, বিদ্যুতের কোন সংকট নেই। হঠাৎ একটু চাহিদা বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, কয়েকদিনের মধ্যে অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।


  
অসুস্থ রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা সবচেয়ে কষ্টে আছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের জন্য বাসা-বাড়ি মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানির সংকট দেখা দেয়। রমজানের মধ্যে সময় মতো পানি না পেয়ে গৃহস্থলী কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। ইফতার ও সেহেরির সময় বিদ্যুৎ না থাকা আরও কষ্টের। দিন রাত মিলিয়ে ৮-১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না সিলেটবাসী। এতে চরম ভোগান্তিতে আছেন সিলেটের মানুষ।
 
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ-ই-আরেফিন রোববার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আজ এই সময়ে তার ডিভিশনে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু সরবরাহ করা হয়েছে ১৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি ১৩ মেগাওয়াট। ফলে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-২ এর অওতাভুক্ত এলাকায় অনির্ধারিত লোডশেডিং হচ্ছেই। সরবরাহ কম থাকায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

তিনি আরও জানান, সিলেট মহানগর ও শহরতলি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। সিলেটের গ্রামাঞ্চলসহ কিছু শহরতলি এলাকায় সরবরাহ করে পল্লি বিদ্যুৎ। কিন্তু বিদ্যুৎ বন্টনের ক্ষেত্রে পল্লি বিদ্যুতের চাইতে পিডিবিকে কম দেওয়া হচ্ছে। পিডিবির চাহিদার অর্ধেকের চাইতেও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন তারা।
 
এ বিষয়ে কুমারগাঁও গ্রিডের ইনচার্জ কাজি মুতাসসিম বিল্লাহ বলেন, অভিযোগটি আসলে সঠিক নয়। আমরা ন্যাশনাল গ্রিড থেকেই কম পাচ্ছি। সে অনুযায়ী ডিস্ট্রিবিউট করছি। এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত গরমের কারণে জেনারেশন ফল্ট এবং ঈদের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়াও বিদ্যুৎহীনতার কারণ। গরমে বাসা বাড়ি, মার্কেট, অফিস পাড়ায় এসির ব্যবহার বেড়ে গেছে। আসন্ন ঈদের কারণে মার্কেট শপিংমলগুলোতে দীর্ঘ সময় খোলা থাকছে। অফিস আদালত, কলকারখানা বন্ধ হয়নি তাই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট অবস্থা আরও তিন-চার দিন থাকবে। এর পরে অফিস আদালত কলকারখানাতে ঈদের বন্ধ হয়ে যাবে। তখন লোডশেডিং সমস্যা এ রকম থাকবে না। 

ইত্তেফাক/পিও