২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমে থাকছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। সেই সঙ্গে স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনার ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ভর্তি কমিটির সিন্ধান্ত মোতাবেক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (১৬ এপ্রিল) রাত দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম দৈনিক ইত্তেফাককে এসকল তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার (১৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদুল আলম সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সময় যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছিলো, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষেও তারা একইভাবেই ভর্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এ বিষয়ে ইউজিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্যের ইচ্ছা অনুযায়ী এটি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
এরই প্রেক্ষিতে রবিবার বিকেল ৫ টায় ইবির কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে অবহিত করা হয় বলে সভা সূত্রে জানা যায়।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিল এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটে গুচ্ছে না যাওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছিল। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন এলে সেখানে আর কিছু করার থাকে না, তা বাস্তবায়ন আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। আসলে রাষ্ট্রপতির আদেশের বাইরে গিয়ে কোনো প্রশাসনের পক্ষেই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না।
তাই সমস্ত ডিনদের ডেকেছিলাম। ভর্তি কমিটির জরুরি মিটিং ডেকেছিলাম। সেখানে গুচ্ছের বাইরে গিয়ে যে প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি গুচ্ছ যেনো ভোগান্তিহীন হয় এবং আগামীতে যেনো সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে সে বিষয়ে বলেছি।
যেহেতু ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। তাই ছুটির পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডেকে সকল শিক্ষকদের অবহিত করা হবে। যাতে তারা অসম্মানিত বোধ না করেন এবং গুচ্ছে সবাই যে যার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করে।
তিনি আরও বলেন, গুচ্ছে পুরো দায়িত্ব এবছর আমাদের দেয়ার কথা ছিল কিন্তু সেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখন আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে যতোটা সম্ভব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এবং আমাদের অংশগ্রহণ যাতে আরও জোড়ালো করতে পারি।
এবিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে শুনেছি। রাষ্ট্রপতির আদেশ মানতে আমরা বাধ্য। এর বাইরে যাবার সুযোগ নেই৷ তাই ঈদের পরে শিক্ষক সমিতির সভা ডেকে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব৷ সেখানে আমরা পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করবো।
