জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের বর্তমানে অন্যতম একটি ট্রেন্ড হল বুকটক (#Booktok)। বই এবং বই পড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এই হ্যাশট্যাগটির ব্যবহার শুরু হয়।
টিকটকের লাখ লাখ ব্যবহারকারী বুকটক এর মাধ্যমে তাদের পড়া প্রিয় বই নিয়ে কথা বলছে। পাঠকরা অন্যদের সঙ্গে তাদের পড়া বইগুলোর রিভিউও শেয়ার করছে বুকটক এর মাধ্যমে।
বাংলাদেশসহ বুকটকের জনপ্রিয়তা এখন বিশ্বব্যাপী। সাহিত্য সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে এই ট্রেন্ডটিকে অনুসরণ করছে আজকের বাংলাদেশি পাঠকরা। বুকটক এর মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে বইয়ের প্রতি তারা তাদের ভালোবাসা তুলে ধরছে সবার কাছে। অনেক স্থানীয় বইয়ের দোকান এবং লাইব্রেরিগুলো জানিয়েছেন যে, বুকটকে ফিচার হওয়া বইগুলোর চাহিদা বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৬ কোটি ১১ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় হ্যাশট্যাগ, #BookTokBD।
২০২০ সালের প্রথম দিক থেকে টিকটকে বুকটক কমিউনিটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর কোভিড মহামারির কারণে সে বছর মার্চ মাস থেকে যখন ‘স্টে অ্যাট হোম’ শুরু হলো, তখন বুকটকের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ব্যবহারকারীরা তখন বিনোদনের পাশাপাশি বুকটকের রিকমেন্ড করা বইগুলো আবিষ্কার করতে আবার টিকটক ব্যবহার করা শুরু করেন। এর ফলে অ্যাপের মাধ্যমে বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ পুনরায় ফিরে আসতে দেখা যায়।
বুকটক জনপ্রিয় হয়ে ওঠার আরেকটি কারণ হচ্ছে, সহজেই এটি পাওয়া যায়। ছোট ভিডিওর কারণে ব্যবহারকারীরা নতুন সব বই এবং লেখককে খুব সহজেই খুঁজে পান। হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে বই এবং বই পড়াকে ঘিরে কমিউনিটিও গড়ে উঠে। এভাবে বুকটকের কারণে পাঠকরা একত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তুলনায় টিকটকে ব্যবহারকারীরা আরও বিস্তৃত পরিসরে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। একই ধরনের বিষয়বস্তুর প্রতি আগ্রহ থেকেই এমন বিশাল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। এই প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট পোস্ট করা খুব সহজ বিধায় বই ব্লগাররা এখানে সংযুক্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
বই পড়া কিংবা লেখা - বই সম্পর্কিত এমন সব কনটেন্টের জন্য বাংলাদেশের টিকটকে বুকটকবিডি হ্যাশট্যাগ জনপ্রিয়। বইয়ের রিভিউ, লেখার টিপস, জনপ্রিয় উপন্যাস নিয়ে আলোচনা মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে সাহিত্যে চর্চা করতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের বই এবং অনেক লেখকদের প্রচার এই ট্রেন্ডের মাধ্যমে হচ্ছে।
আফ্রোদিতিইনরেট্রোগ্রেড (@Aphroditeinretrograde), ওয়ান্ডারিং বিবলিওফাইল (@Wandering.bibliophile), ফারহানা রিডস (@farhana.reads), আর নাফিসা আলমের (@nafisa_alam) মতো ক্রিয়েটররা বিভিন্ন বই নিয়ে তাদের মতামত শেয়ার করেছেন। এর মধ্যে এ টাচ অব ডার্কনেস, ফাইনাল অফার- এই বই দুটি পাঠকদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশি লেখকদের বই সুপারিশ করার ক্ষেত্রেও ক্রিয়েটররা বুকটকবিডি ব্যবহার করে করেছেন।
বর্তমানে পাঠক এবং লেখকরা প্রথাগত যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর পরিবর্তে টিকটকে বুকটকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন। যে কোন তথ্য, নিজেদের মতামত অথবা বইয়ের রিভিউ এখানে তারা শেয়ার করছেন সবার সঙ্গে।
বুকটক জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে, বাংলাদেশের সাহিত্য উদযাপনের জন্য এটি একটি হাব হিসাবে কাজ করবে। এর ফলে বিশ্বের অন্য প্রান্তের টিকটক কমিউনিটিগুলোর কাছে বাংলার লেখক ও কবিদের লেখা পৌঁছে যাবে।
টিকটকের মাধ্যমে আবিষ্কার করা নতুন বই পড়তে মানুষ এখন আগ্রহী। তাই বলা যায় পাঠকের নতুন কমিউনিটি তৈরি করতে প্ল্যাটফর্মটি সফল। বুকটক ট্রেন্ডটির দ্রুত জনপ্রিয়তা বলে দেয় যে নিঃসন্দেহে আরও বেশি মানুষ এখন বই পড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেয়েছে।

টিন্ডারে সেলফি ভিডিওতে ভেরিফিকেশন
হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট এখন ৪টি ডিভাইসে ব্যবহার করা যাবে
গুগল অথেনটিকেটরে অবশেষে টুএফএ কোড