তীব্র গরমে ঈশ্বরদীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে শয্যাসংকট

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ০০:৫১

ঈশ্বরদী হাসপাতালে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালে দুই দিনে গড়ে ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড ঈদের ছুটির জন্য বন্ধ রাখায় শয্যাসংকটে অনেক রোগী ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ চিকিত্সাপত্র নিয়ে বাড়িতে রয়েছেন। সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডাক্তারের চেম্বারে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরম এবং রমজানের পর পবিত্র ঈদুল ফিতরে খাওয়ার অনিয়মের কারণে এ সমস্যা হয়েছে। 

জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরেই ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে বইছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ। এ মৌসুমে ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি ও ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে। শনিবার ও রবিবার গরমের উত্তাপ কিছুটা কমলেও বৃষ্টির দেখা মেলেনি। বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অসহনীয় গরমে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। এরই মধ্যে পবিত্র রমজান। চিকিৎসকরা বলছেন, রমজানে ভাজা-পোড়া খাবার খেতে হয়েছে। এক মাস রোজার পর ঈদের দিন তিন বেলা ভালো খাবার খেয়ে অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। 

গত রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়ার আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। দোতলার দুইটি ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একটি শয্যায় দুই জন রোগীকে এবং ফ্লোরেও তীব্র গরমের মধ্যে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ রয়েছে ৩য় তলার ১৯ শয্যার ওয়ার্ড। 

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিতা ও দিপ্তী বিশ্বাস জানান, ঈদের দিন থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঈদের ছুটির কারণে ৩য় তলার ১৯ শয্যার ওয়ার্ড বন্ধ ছিল। যা সোমবার চালু হয়েছে। ২য় তলার দুটি ওয়ার্ডে সব শয্যায় রোগী ভর্তি আছে। এমনকি এক শয্যায় দুই জন রোগীও রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও  সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, রমজান মাসের রোজা রাখি। হঠাত্ রবিবার সকাল থেকে পেটের ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। হাসপাতালে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিয়ে বাড়িইে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার বড় বোনও অসুস্থ হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্যালাইন ও চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান সোমবার সকালে বলেন, তীব্র গরম ও রোজার পর হাই প্রোটিন খাওয়ার জন্য ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালের শয্যাসংকটের বিষয়ে তিনি জানান, যে ওয়ার্ডটি বন্ধ ছিল তা সোমবার খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ