বিজ্ঞাপনযুক্ত ফ্রি স্ট্রিমিং সার্ভিসই ভবিষ্যতে টিকে থাকবে

আপডেট : ০১ মে ২০২৩, ২২:৩৮

অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বাড়ছে। তবে প্রযুক্তির হিসেবে এমনটি ঠিক বলা যাবে না। কারণ অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের কন্টেন্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেক। এখন টিভির দিকে মানুষের মনোযোগ একেবারেই নেই। 

ধারণা করা হচ্ছে টিভির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে অনেকেই এই ভাবনার সঙ্গে একমত হবেন না। এর প্রধান কারণ হলো, অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসের মধ্যে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, অ্যাপল টিভি প্লাস, হুলু, এইচবিও ম্যাক্স, ডিজনি প্লাস, নেটফ্লিক্সও সাবস্ক্রিপশনের বিনিময়ে সার্ভিস দেয়। এখন সেটা হতেই পারে। মুভি কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখার ক্ষেত্রে স্ট্রিমিং সার্ভিসের কন্টেন্ট যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে সে অনুপাতে ব্যবহারকারী খুব বেশি বাড়েনি। 

স্ট্রিমিং সার্ভিসে সাবস্ক্রিপশনের একটি বড় সুবিধা হলো বিজ্ঞাপনের ঝামেলা নেই। আর এখানে শুধু কন্টেন্টই দেখা যায়। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, নতুন স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলো খুব ধীরগতিতে নিজের ব্যবসা বাড়াতে পারছে। শুধু তাই নয়। হলিউড এ বিষয়ে ব্যবসার ধরন বদলাতে শুরু করেছে। 

স্ট্রিমিং সার্ভিসের এখন ব্যবহারকারী প্রায় ১০ বিলিয়ন। কিন্তু এই ব্যবহারকারী হওয়ার পর আর বাড়ার কোনো নজির দেখা যাচ্ছে না। প্রচুর কন্টেন্ট আসছে। প্রতিবছর এত কন্টেন্টের পেছনে বাজেট বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু ব্যবহারকারীই যদি না বাড়ে তাহলে তো আয় হবে না। তাই যারা বিনিয়োগ করে অর্থই না পান তাহলে এসব স্ট্রিমিং সার্ভিসে কেন বিনিয়োগ করবেন?

টিভির ক্ষেত্রে এই বিষয়টিই কাজ করে। টিভি বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে আয় করে। আবার এখন অনলাইনে এমন অনেক প্লাটফর্ম আছে যেখানে বিজ্ঞাপন থাকে কিন্তু কন্টেন্ট সাবস্ক্রিপশন ফি অনেক কম। আবার অনেক প্লাটফর্মে সাবস্ক্রিপশনই নেই। ভবিষ্যতের স্ট্রিমিং সার্ভিস যে বিনামূল্যেই বাজিমাত করবে তা আর বলে দিতে হবে না।

বর্তমানে স্ট্রিমিং সার্ভিসে অতিরিক্ত ব্যবহারকারী না বাড়ার কিছু প্রত্যক্ষ কারণ আছে। কারণ অনলাইনে যদি বিনামূল্যে শুধু বিজ্ঞাপনের ঝামেলা সহ্য করে বিনোদন পাওয়া যায় তাতে অসুবিধা কি? এই বিষয়টি বিবেচনা করেই অনেকে স্ট্রিমিং সার্ভিসের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

তাই টিভির জন্য ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ বাড়ছে। তাদের ব্যবসা আরও বড় হতে পারে। কারণ টিভি এখন মোবাইল প্লাটফর্ম বা আরও উন্নত প্রযুক্তিতে বিস্তৃত। সবকিছু বিবেচনায় বিজ্ঞাপনযুক্ত ফ্রি স্ট্রিমিং সার্ভিসই ভবিষ্যতে টিকে থাকবে। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোকে বিকল্প আয়ের উৎস বের করতে হবে। বা এমন কিছু বের করতে হবে যার মাধ্যমে আয় বাড়ে। নাহলে বাজিমাত বিজ্ঞাপনযুক্ত স্ট্রিমিং সার্ভিসেই হবে। ইতোমধ্যে টুবি, রোকু চ্যানেল এবং প্লুটোর মতো স্ট্রিমিং সার্ভিস জনপ্রিয়তা পেয়ে যাচ্ছে।  
সূত্র: দ্য ভার্জ

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন