রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিয়ে করতেও চাঁদা!

পল্লবীতে সন্ত্রাস, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ০৩:০০

রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন সজীব। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে মন দেওয়া নেওয়া হয় তার। পরবর্তী সময়ে দুই জন বিয়ে করেন। কিন্তু এ বিয়ে তাদের ওপর খড়গ হয়ে নেমে এসেছে। কারণ, কয়েক জন সন্ত্রাসীকে চাঁদা দিতে হয়েছে তাদের। এর আগে খেতে হয়েছে ব্যাপক মার। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে আসে। 

সজীবের অভিযোগ, কিছু সন্ত্রাসী চাঁদার জন্য তাদের আটক করে মারধর করে। তার পকেটে থাকা ২ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্তে তাদের  রেহাই দেয়। পল্লবী থানায় করা জিডিটি পরে মামলায় রূপান্তর হয়। পুলিশ সূত্রে মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে দুলাল, কাওসার ও নাজমুল নামে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সজীবের করা জিডি থেকে জানা গেছে, গত ৪ মে রাত ১০টার দিকে গার্মেন্টস থেকে বের হওয়ার পর তাকে ও তার স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায় দুলাল, কাওসার ও নাজমুল। মিল্কভিটা এলাকার সামনে একটি ক্লাবে নিয়ে দুই জনকে আটকে রেখে ‘বিয়ে করেছে’ বিধায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। এ সময় সজীবের পকেটে থাকা ২ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে দুলাল তাদের জানান, কয়েক দিন আগে আরও দুই জন বিয়ে করার কারণে তাদের লাখ টাকা দিয়েছে। তাদের  মেরে এ টাকা আদায় করা হয়েছে। সাজীবদের কাছে তো মাত্র ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। পরে সজীবের স্ত্রী বেতন পেলে টাকা দেওয়া হবে বলে কথা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সজীবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয়। তারা বিয়ে করেছিলেন হুজুর ডেকে। এ সময়ের মধ্যে তারা বেতন পাননি। ফলে আলাদা-ই থাকছিলেন দুই জন। পরবর্তী সময়ে  বেতন পাওয়ার পর চলতি মাসের ৮ তারিখে তারা  কোর্টের মাধ্যমে ও কাজী অফিসে ২ লাখ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ মে পল্লবী থানায় জিডি করার পর বিষয়টি জানতে পারে পল্লবী এলাকার সন্ত্রাসী দুলাল, কাওসার ও নাজমুল। বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তারা সজীবকে আটকে আবার মারধর করে। এ সময় হুমকি দিয়ে কাওসার তাকে বলেন, ‘পুলিশ তোদের কয়দিন পাহারা দিয়ে রাখবো? তোর হাত-পা কাইটা ফালামু।’ এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই তারিক হোসেন বলেন, সজীবের অভিযোগ বিবেচনা করে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম