নির্বাচন লইয়া কীসের এত ভয়?

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০৩:৩৭

নির্বাচন কমিশন মেয়াদোত্তীর্ণ আটটি পৌরসভায় আগামী ১৭ জুলাই ভোটগ্রহণের তপশিল ঘোষণা করিয়াছে; কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এই নির্বাচনি প্রক্রিয়া বানচাল করিবার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপতত্পরতা এখনো বন্ধ হইতেছে না। তাহারা এই নির্বাচন ঠেকাইয়া সরকারকে বিপাকে ফেলিতে চাহে। তাহাদের দুরভিসন্ধি সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলিতে তপশিল ঘোষণামাত্র কোথাও কোথাও তাহা ঠেকানোর জন্য মামলা-মোকদ্দমা করিবার প্রবণতা নূতন নহে। একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী নির্বাচনে অস্থিরতা তৈরি করে কিংবা তাহা শেষপর্যন্ত ঝুলাইয়া রাখিতে সচেষ্ট হয়। অনেক সময় মেরিট-ডিমেরিট বিবেচনা না করিয়া গ্রহণ করা মামলা হাতে তুলিয়া লয় আইনপেশার কেহ কেহ। ইহাতে সেই  নির্বাচন অনুষ্ঠানে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা। একসময় ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করিয়া বত্সরের পর বৎসর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন আটকাইয়া রাখা হইত। কূটকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে কেহ কেহ এক যুগেরও অধিক সময় ধরিয়া বহাল থাকিতেন স্বপদে। মেয়াদান্তে এইভাবে যাহাতে কেহ পদ আটকাইয়া রাখিতে না পারেন এই জন্য স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখিয়া গত বৎসর সংসদে পাশ করা হয় স্থানীয় সরকার (পৗরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২। ইহার উদ্দেশ্য যাহাতে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হস্তে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যখন এই ব্যাপারে আন্তরিক, তখন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কেহ এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করিবার চেষ্টা করিতে পারেন না।

যেইখানে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয় এবং তাহারা সকল সময় নির্বাচনকে উত্সব হিসাবে গ্রহণ করেন, সেইখানে মামলা দিয়া এইভাবে নির্বাচন প্রতিহত করার অপচেষ্টা কেন? এই প্রশ্নটি আজ দেশপ্রেমিক মানুষের মনে দেখা দিয়াছে বড় আকারে। আসলে এই সমস্ত মামলাবাজদের মনে এই ভয় ও শঙ্কা কাজ করে যে, তাহারা নিজেরা জনগণের আস্থা অর্জন করিয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসিতে পারিবেন না। তাই তাহারা কামনা করেন নিজেরা যখন আসিতে পারিবেন না, তখন প্রশাসকই কাজ করুক। কেননা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাহারা প্রশাসকদের দ্বারা নিজেদের স্বার্থ ঠিকই হাসিল করিয়া লইতে পারিবেন। এই বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ জানেন না তাহা হইতে পারে না। তাহার পরও সকল কিছু জানিয়া-বুঝিয়াও তাহাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই অবগত রহিয়াছেন যে, যাহারা এইভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনকে ভণ্ডুল করিতে উদ্যত, তাহারা আসলে বর্ণচোরা। তাহারা সরকারি দলে বহিরাগত ও অনুপ্রবেশকারী। তাহারা দল ও সরকারের জন্য বিষফোড়াস্বরূপ। তাহাদের কেহ কেহ স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা তাহাদের উত্তরসূরি। তাহারা দলের নাম ভাঙাইয়া নানা অপকর্মের সহিত জড়িত। দেশে-বিদেশে সরকারকে বিব্রত ও বিতর্কিত করিবার অপচেষ্টায় লিপ্ত। বর্তমানে যুদ্ধবিগ্রহ, স্যাংশনসহ নানা কারণে সমগ্র বিশ্বেই বিরাজমান অর্থনৈতিকসংকট। বাংলাদেশেও এই অভিঘাত আসিয়া লাগিয়াছে। কেননা এই দেশটি কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নহে; কিন্তু আমরা হলফ করিয়া বলিতে পারি, সুসময়ের মাছি এই সকল অনুপ্রবেশকারী ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টিকারীরা একসময় সরকার ও দলের বিপদ দেখিলে ঠিকই কাটিয়া পড়িবে। তাহাদের কেহ কেহ ইতিমধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা বিদেশে পাচার করিয়া সেই সকল দেশের বেগমপাড়াসহ অভিজাত এলাকায় দিব্যি রহিয়াছেন রাজার হালে।

অতএব, যাহারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন বানচালে মরিয়া, তাহাদের ব্যাপারে দলীয় কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আসিয়াছে। ইহার সহিত নির্বাচন কমিশনকে এই ব্যাপারে নিঃশংকচিত্তে দায়িত্ব পালন করিয়া যাইতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, স্থানীয় সরকারে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধন সম্ভব নহে। তাহাদের ভোটাধিকার সংরক্ষণ আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। তাই জনগণের বিরাগভাজন ও আস্থাহীন ব্যক্তি ছাড়া আর কেহ এইভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন লইয়া ছিনিমিনি খেলিতে পারেন না।

 

 

 

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন