চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবা সিন্ডিকেট করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নগরীতে সাত-আটটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এসব হাসপাতালের মালিকদের আলাদা কমিটি রয়েছে। ফলে সিন্ডিকেটের কারণে বেসরকারি সব হাসপাতালে আইসিইউ সেবার নামে গলাকাটা চিকিৎসা বিল আদায় করা হচ্ছে। বেসরকারিতে আইসিইউ সেবায় স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা খুবই সীমিত। ফলে জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই তারা আইসিইউ সুবিধা নিতে না পেরে অকালে মারা যাচ্ছে।
নগরীতে সাত-আটটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালু রয়েছে। রোগীদের মধ্যে শারীরিক জটিলতার কারণে এক পর্যায়ে আইসিইউ সেবা জরুরি হয়ে পড়ে। তখন রোগীকে আইসিইউ সুবিধা ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে চিকিৎসকদের পরামর্শে রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। সার্জারি, কিডনি, আগুনে পোড়া, হৃদরোগীদের চিকিত্সার এক পর্যায়ে আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়। সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জেনারেল হাসপাতালে সীমিত পরিমাণে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। এখানে খরচ কম হওয়ায় রোগীর চাপ বেশি থাকে। আগেভাগে সিরিয়াল নিয়ে আইসিইউ সুবিধা পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা ছুটে যাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে।
নগরীর কয়েক জন বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনাকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় তাদের খরচ বেশি হওয়ার কারণ। তারা জানান, আইসিইউ চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা। আইসিইউর জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চিকিৎসা উপকরণ আলাদা। আইসিইউর চিকিত্সকসহ অন্যান্য স্টাফদের অন্যদের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি বেতন-ভাতা দিতে হয়। আরো আছে অক্সিজেন খরচ, রোগীকে অবস্থা ভেদে ১০ থেকে ১৫টি পরীক্ষা ও ওষুধ খরচ। আইসিইউর ভেনটিলেটর গুলো চার-পাঁচ বছরের মধ্যে বিভিন্ন পার্টসে যান্ত্রিকত্রুটি দেখা দেয়। এতে মেরামত খরচ বেড়ে যায়। আবার দেখা যায় একটি হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ১০টি কিন্তু প্রায় সময় কয়েকটি খালি থাকে। ফলে সব মিলিয়ে বেসরকারিতে খরচ বেশি পড়ে। বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ ইত্তেফাককে বলেন, নগরীতে কয়েকটি এ ক্যাটাগরি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাযুক্ত আছে। তাদের আলাদা কমিটি রয়েছে। আমরা বেসরকারিতে আইসিইউ চিকিৎসা সেবা পরিচালনায় সরকারি কোনো সহায়তা পায় না। আইসিইউর সব স্টাফদের বেতন দ্বিগুণ। প্রায় সময় অনেক বেড খালি থাকে। অন্যান্য চিকিৎসা খরচও বেশি। তাই বেসরকারি গড়ে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ হাজারের কম হলে আইসিইউ সুবিধা প্রদান সম্ভব হয় না।’ বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, আইসিইউর রোগীদের যে কোনো সময় শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। সেভাবে অক্সিজেন, ওষুধ ও অন্যান্য সেবা প্রদান করতে হয়। স্টাফ খরচও বেশি। তাই বেসরকারিতে আইসিইউ চিকিৎসা খরচ বেশি হয়।
আইসিইউ চিকিৎসা পরিচালনার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্রিটিক্যাল মেডিসিন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হয়। দেশে ক্রিটিক্যাল মেডিসিনে ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের স্বল্পতা রয়েছে। ফলে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর এমডি ডিগ্রিধারী ও তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমাধারীরা আইসিইউতে চিকিৎসা পরিচালনা করছেন।

