মদ খেয়ে ভাঙচুর: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ছাত্রলীগ নেতারা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ১৮:১৬

রাজশাহী পর্যটন মোটেলে মদ্যপান করে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের দায়ে আটক ছাত্রলীগের ১২/১৩ নেতা-কর্মী মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে এই ঘটনা ঘটে। এতে নেতৃত্বে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরীর রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল কুমার নন্দী জানান, অভিযুক্তরা নিজেরাই পর্যটন মোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা দিয়ে মীমাংসা করে নিয়েছিলেন। যেহেতু পুলিশ ডাকা হয়েছিল, তাই পুলিশ গিয়ে মুচলেকার কাগজটা নিয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে ইশতিয়াক আহমেদসহ ছাত্রলীগের ১২-১৩ নেতা-কর্মী রাজশাহী পর্যটন মোটেলে মদ পান করেন। এ সময় তাদের বিল হয় ৭ হাজার ২০০ টাকা। একপর্যায়ে বিল না দিয়ে তারা বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন মোটেলের লোকজন বিল চাইলে তারা নিজেদের ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেন। এরপরও বিল চাওয়ায় তারা মোটেলের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর ও দুজন কর্মচারীকে মারধর করেন। এ সময় মোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে কল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর মোটেল কর্তৃপক্ষ গেটে তালা দিয়ে নগরীর রাজপাড়া থানায় খবর দেন। এর মধ্যে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাদের কল দেন আটকে পড়া নেতারা।

পরে নগরীর রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাবিল হাসান গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। ছাত্রলীগ নেতারা ভুল স্বীকার করেন এবং পুলিশের কাছে মুচলেকা দেন। এরপর ৭ হাজার ২০০ টাকা বিল পরিশোধ করলে রাত ১০টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মতামতের জন্য ছাত্রলীগ নেতা ইশতিয়াক আহমেদের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে রাজপাড়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাবিল হাসান জানান, তিনি পর্যটন গিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। অভিযুক্তরা নিজেরাই ভুল স্বীকার করেছেন। মোবাইল ফোন দুটিও মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আবদুর রাজ্জাক জানান, অভিযুক্ত মাঝে মধ্যেই এসে মাতলামি করেন। তখন পুলিশ ডেকে মীমাংসা করতে হয়। শুক্রবার রাতে মোটেলে বসেই তারা মুচলেকা দিয়েছেন। এরপর মদের বিল ৭ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। মোবাইল ফোন দুটিও মেরামত করে দিয়েছেন। সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই তাদের চলতে হয়। আবার কেউ মাতলামি করলে পুলিশও ডাকতে হয়।

ইত্তেফাক/পিও