‘মৃত মা’কে নিয়ে চার মেয়ে ও বাবার একঘরে ৫ দিন বসবাস

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ১৯:৩৮

‘মৃত্যুর পর আবার জীবিত হবে’ এমন ধারনায় ‘মৃত মা’কে নিয়ে ৫ দিন একই ঘরে বসবাস করেছে চার মেয়ে ও তাদের বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজার সংলগ্ন এলাকায়।

জানা গেছে, বুধবার (০৭ জুন) নাজমা বেগম (৬০) মারা যান। মৃত লাশ দাফন না করে মৃতদেহকে ঘরে রেখেই বসবাস করছেন পরিবারের সদস্যরা। ওই পরিবারে শিশুরাও ছিল। পাঁচ দিন পর ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীরা মনোহরদী থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘর থেকে মৃত মহিলার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় ।

এ সময় স্বামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোক্তার হোসেন তালুকদার (৭০) এবং তার চার মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত চার মেয়ে হলেন রিমি আক্তার (৩৫), সুমি আক্তার (৩০), জনি (২৪) এবং নিশাত (১৮)। এদের মধ্যে বড় মেয়ে রিমি আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

স্বজনরা জানান, ওই পরিবারের সদস্যরা এক ভণ্ড পীরের মুরিদ। পীরের নির্দেশে তারা সবাই ২০২০ সাল থেকে এক ঘরে প্রয়োজন ছাড়া পরিবারের সদস্যরা বাইরে বের হতেন না। এমন কি প্রতিবেশী বা স্বজনদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

নিহতের স্বামী মোক্তার হোসেন তালুকদার বলেন, আমার স্ত্রী ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত বুধবার বিকালে অসুস্থতা বেড়ে গেলে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে সে (নাজমা বেগম) বলছিল, ‘মারা গেলে তাকে কবরস্থ না করতে, সে নাকি চার দিন পর আবার জীবিত হবে।’ এই বিশ্বাসে আমার মেয়েরা তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখে। তাদের ভয়ে আমিও কাউকে কিছু বলতে পারিনি।

মনোহরদী পৌরসভার মেয়র আমিনুর রশিদ বলেন, পুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তবে তারা কোনো এক পীরের ভক্ত ছিলো বলে শুনেছি।

মনোহরদী থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

ইত্তেফাক/পিও