অখিলেশকে ‘মুসলিম-বিরোধী’ তকমা দিলেন মায়াবতী

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ২১:০১

সময় যত গড়াচ্ছে তিক্ততা বাড়ছে বিএসপি-এসপির। ‘মহাগঠবন্ধন’ ভুলে কার্যত পুরনো চির-প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক অবস্থানই ফিরে আসছে এসপি-বিএসপি। সাময়িক মিত্রতা ভুলে প্রতিপক্ষ হিসাবেই পরস্পরের দিকে এগোচ্ছে উত্তরপ্রদেশের দুই দল। এবার অখিলেশকে ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে তোপ দাগলেন মায়াবতী। লখনউয়ে সোমবার দলের বৈঠকে বিএসপি নেত্রী অভিযোগ করেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর অখিলেশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই করেননি। তাজ করিডর দুর্নীতিতে মুলায়ম সিংহ যাদব তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও ক্ষোভ মায়াবতীর। তার ঘোষণা, আগামী সব ভোটে একাই লড়বে বিএসপি।

বিজেপিকে ঠেকাতে লোকসভা ভোটে মহাগঠবন্ধন করে লড়েছিল বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ও সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। সঙ্গে ছিল অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দল। কিন্তু ভোটে শোচনীয় ফল হয় মহাজোটের। মায়াবতীর দল বিএসপি-র ঝুলিতে ১০টি আসন। অখিলেশের দল পায় মাত্র ৫টি। এরপরই মহাজোটে কার্যত ইতি টেনে দিয়েছিলেন মায়াবতী। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে একা লড়ার ঘোষণাও করে দেন বিএসপি সুপ্রিমো। একই সঙ্গে মায়াবতীর অভিযোগ ছিল, দলিতদের ভোট এসপি পেলেও যাদব ভোট বিএসপির ঝুলিতে আসেনি। এমনকি, অখিলেশ নিজের স্ত্রী ডিম্পলকেও জেতাতে পারেননি। শুধুমাত্র মুসলিমরা যেখানে এসপিকে ভোট দিয়েছেন, সেখানেই জিতেছেন অখিলেশের প্রার্থীরা।

বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম ভোটকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন, উত্তরপ্রদেশেও রাজনৈতিক পটভূমি কার্যত একই রকম। প্রায় ২০ শতাংশ মুসলিম ভোট নিজেদের দিকে টেনেই বিজেপির মোকাবিলা করতে চাইছেন মায়াবতীও। সেই সূত্রেই এবার অখিলেশকে ‘মুসলিম বিরোধী’ তকমা দিয়ে দিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। অভিযোগ করেছেন, অখিলেশ মুসলিমদের টিকিট দিতে চাননি। মায়াবতী বলেন, ‘আমি যখন ভোটের টিকিট বিলি করছিলাম, তখন সতীশ মিশ্রর (বিএসপি নেতা) মাধ্যমে অখিলেশ বার্তা পাঠিয়েছিলেন, মুসলিমদের যেন টিকিট না দেওয়া হয়। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এবার লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে ১১ জন বিধায়ক সাংসদ হয়েছেন। ফলে ওই কেন্দ্রগুলোতে উপনির্বাচন আসন্ন। মায়াবতী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, উপনির্বাচনে একা লড়বেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, উপনির্বাচনের আগে বিএসপি নেত্রীর এভাবে আক্রমণ করে কার্যত ভবিষ্যতে তার একলা চলার নীতিই আরো স্পষ্ট করলেন। টুইট করেও মায়াবতী সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। উলটো দিকে এসপি শিবির কার্যত নীরব রয়েছে।