চট্টগ্রামের পটিয়ায় আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, নারীদের হয়রানি, জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া, খুন ও মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে ঐ ইউপি চেয়ারম্যান সভা বর্জন করেন।
রোববার (২৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে আইন-শৃংখলা কমিটির সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কমিটির সদস্যরা যথাসময়ে না আসায় বেলা সাড়ে বারোটার দিকে মিটিং শুরু হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে সভায় ছনহরা ইউনিয়নের মাদকের ভয়াবহতা, নারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন, আইন-শৃংখলা কমিটির অবনতি বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় ছনহরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতীকে কথা বলতে বাধা সৃষ্টি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। চেয়ারম্যান তথ্য প্রমাণসহ বক্তব্য চালিয়ে যেতে চাইলে তাকে বসিয়ে দেয়া হয়। তিনি তার কথা চালিয়ে গেলে তার ব্যাপারে আপত্তিকর কথা বলে নাজেহাল করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এতে তিনি সভা বর্জন করে বের হয়ে যান।
চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ দৌলতি জানান, এলাকায় কিশোর গ্যাং ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। গত ১ মাসে কিশোর গ্যায়ের উপদ্রবের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় মানুষ অতীষ্ট হয়ে পড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ৩ জন কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এসব সত্য বিষয় তুলে ধরলে আইন-শৃংখলা সভায় তাকে তোপের মুখে পড়তে হয়। এ কারণে সভা বয়কট করেন তিনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান দৌলতী আইন-শৃংখলা অবনতির কথা বলে মূলত বিএনপির এজেন্ডা তুলে ধরেছেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তাকে অসত্য তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিতে নিষেধ করেছি।
সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তিমির বরণ চৌধুরী, মাজেদা বেগম শিরু, ওসি প্রিটন সরকারসহ কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকে।
পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চেয়ারম্যানের অভিযোগ আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা থানায় জমা দিয়ে বলেছি। কারণ এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
