ব্যাঙ্গালুরু: ভারতের সিলিকন ভ্যালি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩, ২২:৩০

দক্ষিণ ব্যাঙ্গালুরু একসময় ব্যাঙ্গালোর নামেই বেশি পরিচিত ছিল। এই শহরটিকে ভারতের টেকশহর বললে ভুল হবে না। ভারতের বড় বড় টেক কোম্পানি এখানেই অবস্থিত। এই শহরে গড়ে উঠেছে আলাদা এক সংস্কৃতি।

ভারতের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় এই ব্যাঙ্গালুরু শহরে অনেক দ্রুত ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটে প্রযুক্তির কল্যাণে। এখানকার বিভিন্ন কোম্পানিতে যেসব প্রকৌশলী ও তথ্য-প্রযুক্তিবিদ কাজ করেন, তাদের রয়েছে বিশেষ কদর ও মর্যাদা। 

সুপরিচিত সব আন্তর্জাতিক টেক জায়ান্ট অনেক বেশি বেতন দিয়েও তাদেরকে কর্মী হিসেবে হায়ার করতে আগ্রহী। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগেও অবস্থা এমন ছিল না। ভারতের অন্য যেকোনো শহরের মতো এই অঞ্চলও অনেকটা পিছিয়ে পড়াই ছিল। অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ইনফোসিসের নামটিই উল্লেখ করতে হয় সবার প্রথমে।

যাত্রা শুরু ইনফোসিসের 
ভারতের শহরকে সিলিকন ভ্যালির ন্যায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইনফোসিসের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৮০-এর দশকে গড়ে তোলা এই কোম্পানি এখন ভারতের সবচেয়ে বড় টেক কোম্পানি। বর্তমানে কোম্পানিটির আর্থিক মূল্য আট হাজার কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠাতাদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায় আজ কোম্পানিটিকে এই পর্যায়ে এনেছে।

নারায়ণ মূর্তির কথাও বলতে হবে
১৯৪৬ সালে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে নারায়ণ মূর্তির জন্ম। ১১ সদস্যের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। হাই স্কুলের শিক্ষক বাবা পরিবার চালাতে হিমশিম খেতেন। ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রযুক্তি খাতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। এমনিতেই দক্ষ প্রকৌশলীর শহর হিসেবে ব্যাঙ্গালোর ছিল জনপ্রিয়। আর এর ভৌগোলিক অবস্থান একে বিরাট সুবিধা দিয়েছে।

১৯৭০-এর দশকে ভারত প্রযুক্তি সুপার পাওয়ার হতে শুরু করে। নারায়ণ মূর্তি আগেই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। নারায়ণ মূর্তি উদ্যোক্তা হিসেবে শুরু করেন ইনফোসিস। এই ইনফোসিসের কথাই শুরুতে বলেছি।

সফটওয়ার বানানোর কাজ
ইনফোসিস এমন কিছু সফটওয়্যার তৈরি করলো যার সাহায্যে আমেরিকার একটি কোম্পানি কোনো একটি পোশাক তৈরির জন্য তাইওয়ানের অরণ্যে অবস্থিত পোশাক প্রস্তুতকারী একটি কারখানার কাছে কাস্টমার অর্ডার পাঠাতে পারে। এই সফটওয়্যারের কারণে অর্ডার দেওয়া এবং পণ্য ও সেবার জন্য মূল্য পরিশোধ করা অনেক বেশি দ্রুত ও সহজ হয়ে ওঠে। কিন্তু তখনও ইনফোসিস প্রযুক্তি-খাতে ইতিহাস তৈরি করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির আরো বড় হয়ে ওঠার জন্য তাদেরকে ভারতের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের লড়াই শুরু করতে হয়। তারপরও টিকে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিবর্তন 
১৯৯৭ সালে আচমকা সবাই আবিষ্কার করে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা ব্যাঙ্গালুরু এখন কম্পিউটারের শহর। ১৯৯১ সালে উদার অর্থনীতির নীতি গ্রহণ করায় টেক কোম্পানি সব বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি পায়। আস্তে আস্তে যন্ত্রদানবের জগতে প্রবেশ করে ভারত। স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি কারণে বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থানকারী কোম্পানিগুলো এত কাছাকাছি চলে আসে যেন তারা পাশের রাস্তায় অবস্থান করছে। প্রযুক্তির কদর হুট করে বেড়ে গিয়েছিল।

বিগত ৪০ বছরে ব্যাঙ্গালুরুতে প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটেছে। এই বিপ্লবের শুরু ইনফোসিসের মাধ্যমে। এখন ইনফোসিস বড় বড় কোম্পানির জন্য সফটওয়ার তৈরি করার পাশাপাশি ৫০টি দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকে। নারায়ণ মূর্তি সেই ২০১৪ সালেই অবসর নিয়েছেন। কিন্তু যে আগুন জ্বালিয়ে গেছেন তা কি সহজে নেভে? 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন