ভূমিকম্প হলে কতটা ভয়াবহ ফল হয় তার নজির আমাদের সামনে তুরস্ক হাজির করেছে। পরিকল্পিতভাবে ভালো উপাদান ব্যবহার না করে ও বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের ফলে ঝুঁকি বাড়ে। ঢাকাসহ অনেক জেলায় গত মাসে ভূমিকম্প অনুভব করা গেছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের বিষয়ে পরিবেশবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন।
ভূমিকম্প হলে পুরনো ভবনের বাঁচার পথ কম। তবে আমাদের দেশের অধিকাংশ ভবনই পুরনো। এসব ভবনকেও নানাভাবে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। বৈজ্ঞানিকভাবে মোটমাট সাতটি পদ্ধতির কথা আমাদের জানা রয়েছে।
প্রচলিত পদ্ধতি
প্রথমেই আমাদের জানতে হবে পুরোনো ভবনকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করার প্রচলিত উপায়গুলো সম্পর্কে। প্রকৌশলীরা এই পদ্ধতি ব্যবহারে অনেক পুরোনো ভবনকে ঝুঁকিমুক্ত করেন।
ওয়াল থিকেনিং: ভবনের দুই কলামের মাঝের দেয়ালটাকে মোটা করে ওজন বাড়ানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় রড ব্যবহার করে ঢালাইয়ের মত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
শিয়ার ওয়াল: শিয়ার ওয়ালে পিলারের পাশে আরো কিছু রড দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়। তখন একটি দেয়াল উঠে যায়। প্রকৌশলীরা আংশিক কিংবা পূর্ণাঙ্গ দেয়াল তুলতে পারেন। কিন্তু এই পদ্ধতি ব্যবহারের আগে পুরো ভবনে একবার নজর বুলাতে হয়। কোথায় কোথায় দেয়াল করা যায় তা আগে নির্ধারণ না করলে লাভ হয় না।
স্টিল ব্রেসিং: দুটো পিলারের মাঝ বরাবর একটি ধাতব ফ্রেম বসানো হয়। এই ধাতব ফ্রেম ভবনকে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি থেকে রক্ষা করে।
কলাম জ্যাকেটিং: পিলারকে জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়া হয়। না, না। আপনার পরনের মতো জ্যাকেট নয়। পিলারকে মোটা ও আরও দৃঢ় করার জন্য বিশেষায়িত উপকরণ ব্যবহার করা হয়।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খরচ বেশি হলেও সুফল মেলে। পুরনো অনেক ভবনে অবশ্য কম খরচেও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। উন্নত বিশ্বে পুরোনো ভবনের জন্য নিম্নোক্ত তিনটি প্রযুক্তি বেশি ব্যবহৃত হয়:
টিউন মাস ড্যাম্পার: পুরনো ভবনের ছাদে বড় আকারের সিস্টেম বসানো হয়ে থাকে। এই সিস্টেমের ভেতর পানি অথবা তেলের মতো তরল থাকে। এমনভাবে সিস্টেমটি তৈরি করা যাতে ভূমিকম্প শুরু হল ঝাঁকুনি সহ্য করতে পারে। অনেক সময় ভেতরের তরল দুলবে আবার অনেক সময় ডানে-বায়ে স্লাইড করতে থাকবে।
বেজ আইসোলেটর: এই প্রযুক্তি আবার প্রথমোক্তটির উলটো। ভবনের নিচ দিয়ে এই বেজ আইসোলেটর ভবনকে ভিত্তি থেকে আলাদা করে দেয়। এমনভাবে এই প্রযুক্তি বসানো হয় যেন ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পুরনো ভবন না নড়ে। ভবনের নিচের অংশ ঠিকই দুলবে। তবে ওপরের অংশে কোনো ঝাঁকুনি পাওয়া যাবে না।
বাকলিং রিস্ট্রেইন ব্রেইস: এটি অনেক ব্যয়বহুল প্রযুক্তি। মূলত এই প্রযুক্তি স্প্রিং-এর নীতি ব্যবহার করে থাকে। ভূমিকম্পের সময় এই প্রযুক্তির কাঠামোর ভেতরে থাকা স্প্রিং সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে পিলারের ওপর ভূকম্পনের চাপ কমায়। মার্কিন মুলুক কিংবা চীনে এই প্রযুক্তি বেশি ব্যবহৃত হয়।

হঠাৎ লিফটে আটকা পড়লে যা করবেন
রক্তদান করতে পারবেন না যারা
চোখের পানির স্বাদ কেন নোনতা