বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পাবিপ্রবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষার ৪০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ১৮:১২

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষার তহবিলের টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভর্তি পরীক্ষা থেকে আয়ের ৪০ শতাংশ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। উপাচার্যসহ ঊর্ধ্বতন এসব টাকা ভাগ করে নিয়েছেন।

পাবিপ্রবির অর্থ ও হিসাব শাখার একটি সূত্র জানায়, উপাচার্য অধ্যাপক হাফিজা খাতুন, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোস্তফা কামাল খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কে এম সালাহউদ্দিন এবং কয়েকজন ডিন পরস্পরের যোগসাজশে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গুচ্ছ পরীক্ষার সম্মানি নিয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। গত ১০ এপ্রিল এ টাকা ছাড় করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়মানুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষা তহবিলের আয়ের ৪০ শতাংশ অর্থ, এবারের হিসেবে যা প্রায় ৫০ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা করা হয়নি।

সূত্র জানায়, উপাচার্য হাফিজা খাতুন ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা, সহ-উপাচার্য মোস্তফা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন প্রত্যেকেই ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়রুল আলম ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন রাহিদুল ইসলাম ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক দিলীপ কুমার সরকার ২ লাখ ২১ হাজার টাকা, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন সম্মানী হিসেবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক খায়রুল আলম টিএ/ডিএর নামে আরও কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক খায়রুল আলম বলেন, এটি কোনো অবৈধ টাকা নয়। যারা যারা কাজ করেছেন, তারা এটা পেয়েছেন।

কোষাধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এটা চিরাচরিত নিয়ম। এটা পারিশ্রমিক। এ টাকা গ্রহণ দোষের কিছু না। গুচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ভর্তি পরীক্ষার আয়ের ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়ার নিয়ম উঠে গেছে।

পাবনা নাগরিক সমাজের সভাপতি আব্দুল মতীন খান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া অনৈতিক এবং এর তদন্ত হওয়া উচিত।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খায়রুল হক বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টাকা সব খরচ ও সম্মানী প্রদান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে জমা না হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে দুদক খতিয়ে দেখবে।

উপাচার্য হাফিজা খাতুনের মোবাইল বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সরকারের অডিট বিভাগ পাবিপ্রবির বিভিন্ন প্রকল্প ও একাডেমিক খাতে নানা অনিয়মের কারণে ১০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দিয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া লিফট কেনার জন্য পাবিপ্রবি প্রতিনিধি দলের তুরস্ক সফরে যাওয়ার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে তা বাতিল হয়।

ইত্তেফাক/এবি