কাতারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব-এর ৯৩ তম এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল-এর ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (৬ আগস্ট) রাজধানী দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে এ আয়োজন করা হয়। এ সময় দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বঙ্গমাতা ও শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালসহ ১৫ আগস্ট এর সকল শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়। এছাড়াও, আলোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব এবং শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর উপর নির্মিত দু’টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রদূত মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সহযাত্রী হিসাবে বঙ্গমাতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের অনুপ্রেরণার উৎস, একদিকে তিনি যেমন সংসারের হাল ধরেছেন অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর কারান্তরীণ অবস্থায় সাহসকিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।
শহিদ ক্যাপ্টেন কামাল সম্বন্ধে স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বহুমাত্রিক এবং সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তিত্বের মাত্র ২৬ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন ছিল তাঁর অসামান্য অর্জনে সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর মতই তিনি ছিলেন বাঙালির অধিকার আদায়ে সোচ্চার আর নির্ভীক। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অভিযাত্রায় তাঁর প্রদর্শিত পথ, আদর্শ এবং দিকনির্দেশনা আজও এক অনুকরণীয় মডেল। শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জীবন ও আদর্শ সবসময় আমাদের কাছে, বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এ সময় সংসদ সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম বাবু, দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, কাতারে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, কাতারস্থ বাংলাদেশি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং নারী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

