জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার মায়েশার বাবা সায়েদুল ইসলাম দুলাল ও তার চাচা ফজলুর রহমানকে ছয় বছর আগে বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জঙ্গি সন্দেহে সে সময় নাটোর শহরের চানপুর পাবনাপাড়ার বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ মায়েশা (২০) শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গ্রেপ্তার হন।
পুলিশ জানায়, কুলাউড়ার পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের নিভৃত টিলায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ‘অপারেশন হিলসাইড’ অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়। আটকরা ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামের নতুন একটা জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠনের হয়েই কাজ করছিলেন নাটোরের সায়েদুল ইসলামের মেয়ে মায়েশা ইসলাম। তার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন সায়েদুল ও তার পরিবারের লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার মায়েশার বাবা সায়েদুল ইসলাম ও চাচা ফজলুর রহমানকে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার করে। সেই ঘটনায় সায়েদুল জামিনে মুক্ত হলেও এখনো কারাগারে আছেন তার ভাই ফজলুর রহমান। এছাড়া যে গ্রামে এই জঙ্গি সংগঠনটির কার্যক্রম চলছিল, সেখানকার বেশিরভাগ জমিই সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। নির্জন ওই পাহাড়ি এলাকায় সরকারি জমি দখল বিক্রির প্রচলন রয়েছে। সেই সুযোগেই জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলার’ সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে দখল শর্তে কিনে জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলেন। শনিবার পূর্ব টাট্রিউলি এলাকায় একটি বাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে নাটোরের মায়েশাও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাসদুয়েক আগে নাটোরের স্থানীয় একটি মসজিদে চিকিৎসক সোহেল তানজিমের সঙ্গে মায়েশার বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই তারা গ্রাম ছাড়েন। এরপর আর তাদের গ্রামে দেখা যায়নি। মৌলভীবাজারে মেয়ে মায়েশা গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই গা ঢাকা দেন সায়েদুল ইসলাম। বর্তমানে তাদের বাড়িতে কেউ নেই। ছয় বছর আগে যখন নিজের বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সায়েদুল ও তার পরিবারের লোকজন। তখন থেকেই প্রতিবেশীরা জানেন সায়েদুল সপরিবারে জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার মায়েশা ইসলামের পরিবারের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। এছাড়া স্থানীয়দেরও ওই পরিবারের বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ করেছেন।
