যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে। নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে স্মরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর দিনটি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে শোক দিবস পালন
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় শোক দিবস এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন।
এসময় রাষ্ট্রদূত ইমরান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিকামী বাঙালি জনতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ অস্ত্র হাতে তুলে নেন এবং জাতির পিতার নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনেন। ১৫ আগস্টকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে এবং তার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইস্তাম্বুলে শোক দিবস পালন:
জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করেছে ইস্তাম্বুলের বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সকালে কনস্যুলেট প্রাঙ্গনে কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নূরে-আলম জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে শোকদিবসের দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।
কনসাল জেনারেল নূরে-আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনন্যসাধারণ নেতৃত্ব, অনন্য বাগ্মিতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমগ্র জাতিকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন; তিনি বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন মুক্তি সংগ্রামের জন্য।’
বিশিষ্ট তুর্কি সাংবাদিক ও লেখক আহমেদ জোস্কুনাইদিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন ও সমাজচিন্তা চিরঞ্জীব। বঙ্গবন্ধু প্রজন্মান্তরে সকলের জন্য অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রথিতযশা তুর্কি কবি জনাব নাজমি আউল বঙ্গবন্ধুর কর্মের উপর একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন।
আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভিয়েতনামে শোক দিবস পালন:
হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনীর। রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ দূতাবাস প্রাঙ্গণে সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে দিবসের সূচনা করেন।
এরপর জাতির পিতা ও তার পরিবারের শহিদ সদস্যদের মাগফেরাত কামনা করা হয়। স্মরণসভা পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ড–ওং মিন সান।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি ও ভিয়েতনামের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্পেনে শোক দিবস পালন:
স্পেনের মাদ্রিদে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি এর নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ, এনডিসি জাতীয় শোক দিবসের উপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন। আলোচনার শুরুতেই তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের।
এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার প্রধানত: দু'টো পন্থায় করা সম্ভব। প্রথমত: খুনীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো, যেটি ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। কয়েকজন খুনী দেশের বাইরে অবস্থান করছে। সরকার তাদের দেশে এনে বিচার করার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাপানে শোক দিবস পালন:
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করেছে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। পরে আগত অতিথি, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী এবং জাপান আওয়ামি লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
এসময় রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি ছিলেন বাঙালী জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বাধীনতার রুপকার। এ অবিসংবাদিত মহাপুরুষের দূরদর্শী, অকুতোভয় ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সমগ্র বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধে। তার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন দেশ।
আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সুইডেনে শোক দিবস পালন: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালন করেছে সুইডেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
এদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে শাহাদাতবরণকারী সকল শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত জনাব মেহ্দী হাসান-এর নেতৃত্বে উপস্থিত সুধীবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এসময় রাষ্ট্রদূত বলেন জাতির পিতার দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিলো আমাদের মহান স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে তারই সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ একটি উন্নত- সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ হবার পথে এগিয়ে চলেছে। রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার আত্মত্যাগের মহিমা ও আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিল্লীতে জাতীয় শোক দিবস পালিত
যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে নয়া দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং জাতির পিতার জীবন ও কর্মের উপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
হাই কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ পরিক্রমায় সংঘটিত বিভিন্ন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চারিত্রিক গুণাবলীর সাথে রাজনৈতিক ধী-শক্তির সংমিশ্রণে একদিকে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন ‘রাজনীতির কবি’।
সন্ধ্যায় ‘বঙ্গবন্ধুঃ মানবাধিকার ও স্বাধীনতার অগ্রদূত’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শুরুতেই হাই কমিশনার রহমান বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে সূচনা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এসময় বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, আজকের বাংলাদেশের ঈর্ষনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সেই সাক্ষ্যই বহন করে।’
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, স্বাগতিক দেশের গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ, মিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দএবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা এসকল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মায়ামীতে জাতীয় শোক দিবস পালন
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামীতে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে কনস্যুলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় এবং কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কর্নারে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকেও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়।
এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ও বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ডের শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের উপর নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। ১৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ তাঁর বক্তব্যে ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সম্পর্কে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সকলকে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ফ্রান্সে জাতীয় শোক দিবস পালন
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস ফ্রান্স।
এ উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ থেকে তেলাওয়াত ও পাঠ, জাতির জনক এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্য সহ ১৫ আগষ্টে শাহাদাত বরণকারী শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মিজানুর রহমান, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদের, উপ-মিশন প্রধান কাজী এহসানুল হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এবং দ্বিতীয় সচিবকে এফ এম শারহাদ শাকিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ।
পরে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার সভাপতিত্বে এবং দূতালয় প্রধান ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় জাতীয় শোক দিবসের উপর আলোচনা করেন ইউরোপ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি সোহরাব মির্ধা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন কয়েস।
এছাড়া উপদেষ্টা এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মিজান চৌধুরী মিন্টু, অবনী দাস গোপাল, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহেদ আলী, শাহজাহান রহমান, মোতালেব খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ওয়াদা সেলু, জুবের আহমেদ, প্যারিস মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খান সাইফুল, যুবলীগ নেতা আলীম উদ্দিন সুমন, আব্দুল কাইয়ুম, ফ্রান্স ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফ ইসলাম সহ ফ্রান্স আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত তালহা তার সমাপনী বক্তব্যে শোকদিবসের শোক কে শক্তিতে পরিণত করে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান।
