দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গুরুদাসপুরের মাছ এখন বিশ্ববাজারে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১৮:০৭

পাবদা, সিং, মাগুর, রুই ও কাতলা। সবই চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিক পুকুরে। স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ ভালো হওয়ায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গুরুদাসপুরের মাছ এখন বিশ্ববাজারে। এখানকার মাছ চাষিরা দেশ-বিদেশের বাজারে মাছ বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এ কারণে ক্রমেই বাড়ছে চাষির সংখ্যাও।

সরকারি-বেসরকারি জরিপ মতে, বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে চাষ করা কার্প এবং মিশ্র প্রজাতির ২০ হাজার মেট্রিক টন মাছ বিক্রি করে গতবছর এসেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি। চলতি বছর সরকারিভাবে মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন।

জানা গেছে, রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, ছিলভার, ব্রিগেড, গ্রাস কার্প জাতের মাছ চাষ হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি পুকুরে নিবিড় এবং আধা নিবিড় দুই পদ্ধতিতে মিশ্র হিসেবে কই, শিং, পাবদা, গুলসা-টেংড়াসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। এরমধ্যে মিশ্র প্রজাতির সুস্বাদু পাবদা, সিং, পাঙ্গাশ মাছ ভারতে রপ্তানি করছেন চাষিরা।

বিদেশে মাছ রপ্তানি করা চাষি আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের মাছের ভারতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণে নিয়মিতই পাবদা, শিং ও পাঙ্গাশ মাছ ভারতের বাজারে বিক্রি করেন। এতে তিনি ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছও বিদেশে রপ্তানি করতে চান।

গুরুদাসপুর মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২০ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার হেক্টর আয়তনের চাষযোগ্য বাণিজ্যিক পুকুর ছিল ১০ হাজারের বেশি। এসব পুকুর থেকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে মাছ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া  ৯টি নদী, ৩টি খাল, ৬টি বিল থেকে বছরে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন এবং ৩০টি প্লাবন ভূমি থেকে ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন ও অন্যান্য জলাশয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই বছর মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। খাল-বিল, নদী, জলাশয়ের মাছ উপজেলার অভ্যন্তরে বাজারজাত করা হয়। এছাড়া চাষের উৎপাদিত সব মাছই সারাদেশের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়। চলতি বছর মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে।

মৎস্য দপ্তর থেকে গৃহীত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২০২১-২২ নাগাদ মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৬ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বেসরকারি জরিপে ২০২১-২২ সাল নাগাদ প্রকৃত উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনও ছাড়িয়ে গেছে।

মাছচাষি রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, তারা পোনা মাছ চাষ করেন না। ন্যূনতম এক কেজির ওপরে কার্প প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়। ৬ থেকে ৮ মাস মেয়াদের মধ্যেই মাছগুলো ন্যূনতম আড়াই কেজি থেকে সাড়ে ১২ কেজি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আকারভেদে এসব মাছের পাইকারি বাজারদর ১৫০ টাকা থেকে ৫০০টা কেজি।

চলনবিল রক্ষা কমিটির সদস্য সহকারী অধ্যাপক সাজেদুর রহমান বলেন, দখল-দূষণের ফলে চলনবিলে কমেছে প্রাকৃতিক জলাধার। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে মিঠাপানির মাছ। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে মাছ চাষের পুকুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হচ্ছে চাষের মাছ। মাছ চাষে এই অঞ্চলের চাষিরা নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছেন।

গুরুদাসপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলাজুড়ে বছরে মাছের চাহিদা সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় গুরুদাসপুরে মাছ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় তিনগুণ বেশি। এতে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

ইত্তেফাক/এবি