বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রমোশনের লোভ দেখিয়ে নারী সহকর্মীকে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের অনৈতিক প্রস্তাব 

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ১৮:৪৭

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) মিজানুর রহমান টমাস নামে এক ডেপুটি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ এর অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। ফোনালাপে তিনি এক নারী কর্মকর্তাকে শারীরিক সম্পর্ক করার অনৈতিক প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে ওই নারী কর্মকর্তার প্রমোশন করে দেবেন।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান টমাস কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা সেল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার। 

ফোনালাপে মিজানুর রহমান টমাসকে বলতে শোনা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি পদে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তাকে সেকশন অফিসার এবং পরবর্তীতে তাকে আরও উচ্চ পদে প্রমোশন করিয়ে দেবেন বলে তাকে বারবার অনৈতিক প্রস্তাব দেন। 

ওই নারী কর্মকর্তা প্রস্তাবে রাজি না হলে একপর্যায়ে  মিজানুর রহমান টমাস তাকে বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাডার লাইনে রাজনীতি করেছি, একমাত্র আমার সঙ্গে নাইন এমএম (পিস্তল) থাকতো। এছাড়াও পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির দুই বার গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলাম।  এসময় তিনি তদবির করে অন্যান্য কর্মকর্তা বদলির উদাহরণ দেন। এরপরও নারী কর্মকর্তা অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান ডেপুটি রেজিস্ট্রার টমাস।

এদিকে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, জুনিয়র নারী সহকর্মীর প্রতি সিনিয়র কর্মকর্তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনার পর থেকে নারী সহকর্মীরা আতঙ্কে আছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কথা বলবেন না বলে জানান।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান টমাস বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটা অপশক্তি এটা করেছে। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর সন্তোষ কুমার বসু বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি