অনলাইন প্ল্যাটফরমে মেল বেট, ওয়ান এক্সবেট ও বেট উইনার নামের জুয়ার বেটিং সাইট চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পাচার করছে। রাশিয়া থেকে মূলত এই সমস্ত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর দেশে নিয়োগকৃত ম্যানেজাররা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এক বছর ধরে দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জুয়ার সাইটগুলো। এর মধ্যে কোটি কোটি টাকা দিয়ে ডলার ক্রয় এবং অতঃপর তা বিট কয়েন হয়ে দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। সিআইডি বলছে, এসব সাইট পরিচালনাকারী অনেক ম্যানেজার ও এজেন্ট সিআইডির নজরদারিতে রয়েছে। সেলিব্রেটিরাও এমন জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন করছেন। অনেক টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনে এসব বিজ্ঞাপন প্রচারও হচ্ছে।
অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার অভিযোগে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বনশ্রী, আগারগাঁও ও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানা এলাকায় বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রেজাউল করিম (৩১), সৈকত রহমান (৩০), সাদিকুল ইসলাম (২৮), নাজমুল আহসান (৩০), তৌহিদ হোসেন (২৫) ও জাকির হোসেন (৩৪)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, নিয়মিত মনিটরিংকালে অনলাইন প্ল্যাটফরম মেল বেট, ওয়ান এক্সবেট ও বেট উইনার নামের বেটিং সাইটসমূহ নজরে আসে। সিআইডি লক্ষ্য করে সেখানে বাংলাদেশের অনেক গ্রাহক বেটিং বা জুয়া খেলায় অংশ নিচ্ছে। এদের কেউ কেউ জুয়ার সাইট পরিচালনাও করছে।এরই ধারাবাহিকতায় ঐ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে সিআইডির ঐ কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া থেকে মূলত এই সমস্ত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীয়তপুরের বাসিন্দা মতিউর রহমান যিনি রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থান করছেন তিনি মূলত এই সাইটসমূহের বাংলাদেশের দায়িত্বে রয়েছেন। তার সহযোগী হিসেবে রয়েছেন যশোরের আশিকুর রহমান। এই দুজন গ্রেফতারকৃত সৈকত ও রেজাউলসহ মোট চার জনের সমন্বয়ে বাংলাদেশে এ তিনটি ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাদের মাধ্যমে জুয়ার এজেন্টরা ওয়েবসাইটে ব্যবহূত এজেন্ট সিম (এমএফএস) ব্যবহার করে সারা বাংলাদেশ থেকে জুয়াড়িদের টাকা সংগ্রহ করে। কমিশন বাবদ তারা টাকার একটা ক্ষুদ্র অংশ পেয়ে জুয়াড়িদের কাছ থেকে সংগৃহীত পুরো টাকা অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছে হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কনভার্ট করে রাশিয়াতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মূলত এই সমস্ত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশে স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়। তারাই জুয়ার এজেন্ট হিসেবে বিশ্বস্তদের নিয়োগ দেয়। জুয়ার এজেন্টরা এ সমস্ত অ্যাপস পরিচালনা করতে পারে টেকনিক্যালি দক্ষ এমন লোক রাখেন।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত রেজাউল করিম তার বাসায় টেকনিক্যালি দক্ষ কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে সাতটি কম্পিউটার ও চারটি ল্যাপটপ দিয়ে আইটি ল্যাব তৈরি করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। জুয়ার টাকা লেনদেনের জন্য তাদের সঙ্গে যুক্ত হন গ্রেফতারকৃত সাদিকুল ও জাকির হোসেনের মতো এমএফএস এজেন্ট। গ্রেফতারকৃত নাজমুল, তৌহিদদের মতো এমএফএস ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় এই চক্র এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছিল।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ আরো বলেন, এক বছর ধরে দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে জুয়ার সাইটগুলো। সেলিব্রেটিরাও এমন জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন করছেন। অনেক টেলিভিশন তাও আবার প্রচারও করছে। এছাড়া এমএফএস ব্যবস্থার নজরদারির অভাব রয়েছে। এসব রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।

