সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে কৃতী শিক্ষার্থীদের ৮ লাখ টাকার বৃত্তি প্রদান

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:৩৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের প্রথম স্থান অর্জনকারী ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিসিএস অফিসার্স ফোরামের উদ্যোগে ৮ লাখ টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে।

শনিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে ৩৪টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউটের মোট ৪০জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও জাবি বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, 'বৃত্তি হচ্ছে কৃতীর স্বীকৃতি৷ কৃতীর স্বীকৃতির সাথে স্মৃতির দর্পণ হাত ধরাধরি করে আসে। এখানে টাকার অঙ্কে যে কাজটি করা হচ্ছে আমি মনে করি না সেটা উল্লেখযোগ্য কোনো বিষয়। বরং কৃতির স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে এটিই উল্লেখযোগ্য।'

তিনি আরো বলেন, 'কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বা বৃত্তি প্রদানের কারণে তারাও খুশি হবে। কিন্তু এ খুশি হওয়াই শেষ কথা নয়। তারা এ বৃত্তির মাধ্যমে জীবনে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। এটা মেধার স্বীকৃতি। ভবিষ্যতে এই সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা যখন স্বাবলম্বী হবে তখন তাদেরও অন্যদের পাশে এভাবে দাঁড়াতে হবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, 'অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে এ প্রথম এত বড় বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছাড়াও তার পরিবার উপকৃত হবে। আমি আশা করছি, এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির উপকারে আসতে পারে। এজন্য আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, বিসিএস ফোরাম প্রতিবছর তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ বলেন, 'অ্যালামনাইরা শুধু শিক্ষাবৃত্তিতে নয়, ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতেও কাজ করবে। কারণ তারা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বাসেডর। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশ-বিদেশের কাছে তুলে ধরে। আজ তার প্রমাণ দিল বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। তারা পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্পাসকে ভুলে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছে। আমি আশা করবো শুধু শিক্ষাবৃত্তি না, ভবিষ্যতে তারা গবেষণাসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে কাজ করবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, 'আমাদের প্রয়োজনে, আমাদের দুঃখে যে সংগঠনটি পাশে থাকে সেটি হচ্ছে বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। আমাদের বিপদে, দুঃখে তাদের অনেক সহায়তা পেয়েছি। ভবিষ্যতে যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হবে তখন আমরা এই ফোরামের সহায়তা পাবো। এভাবে আপনাদের সবাইকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাহলেই আমরা বৈশ্বিক মানদন্ডে অনেক এগিয়ে যাব।'

বৃত্তিপ্রাপ্ত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ মাহিম বলেন, 'এ বৃত্তি পাওয়ার ফলে আমরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার ফোকাসে আরো বেশি মনোযোগী হবো। এতে আমাদের পরিবারও খুশি হবে।'

অনুষ্ঠানে বিসিএস অফিসার্স ফোরাম জাবি শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ডিএমপি ডিবি ডিসি মো. আবদুল আহাদ, কোষাধ্যক্ষ বজলুর করিম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আব্দুল বাকী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আলমগীর কবির প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এআই