আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত লক্ষ্মীপুরের মাইনুল 

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৮:২৪

শিশুদের জন্য নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৩ এর জন্য মনোনীত হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের সন্তান মাইনুল ইসলাম। নেডারল্যান্ডসের কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে।

এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ৩৫টি দেশ থেকে ৮৮ জন শিশুকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে এই পুরস্কার চালু করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবন মান উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতি বছর এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

মাইনুল ইসলামের বিষয়ে কিডস রাইটসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, মাইনুল একজন ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী পরিবর্তনকারী এবং সামাজিক উদ্ভাবক। ২০২০ সালে করোনা মহামারী চলাকালীন, তিনি এবং তার আশেপাশের অনেক শিশু ইন্টারনেট এবং ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে ৬০০০০০০ এরও বেশি শিশু ও কিশোর ইন্টারনেট এবং ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। সেই সময়, ইন্টারনেট এবং ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময়, শিশু এবং কিশোররা কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামগ্রীর মুখোমুখি হয়েছিল। এগুলি দেখে অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, কেউ কেউ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে, হতাশা, অপরাধবোধে ভোগে বা কিছু ক্ষেত্রে মাদক সেবন ও আত্মহত্যার পথ অবলম্বন করে।  এই ঘটনাটি মাইনুলকে নাড়া দেয় এবং তিনি তার দলসহ এই ভিডিও বিষয়বস্তু দেখে কোনো শিশু বা কিশোরকে কোনো অপরাধের শিকার হতে দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। নিরাপদ ইন্টারনেটে শিশু-কিশোরদের অধিকার রক্ষা এবং বাংলাদেশে শান্তি প্রদানের জন্য মাইনুল ৩ বছর ধরে কাজ করছেন এবং অনেক শিশু-কিশোরদের অধিকার দাবি করেছেন।

মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘এ পুরস্কারে মনোনীত হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আমি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে, সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম করে যাচ্ছি। নিশ্চয় বাংলাদেশকে এইভাবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের চেয়ে বড় আর কোন কিছুই হতে পারে না । সত্যি আমি অনেক বেশি গর্ববোধ করছি।'

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে এই পুরস্কার জিতেছিল সাদাত রহমান। ২০১৩ সালে এই পুরস্কার জয়ী হয়েছিলেন মালালা ইউসুফজাই। এবং ২০২৩ সালে পেয়েছিল জাপানের রেনা কাওয়াসাকি। প্রতিবছর  ১ জন  নোবেল শান্তি  বিজয়ী ব্যক্তি নিজ হাতে এই শিশু শান্তি পুরষ্কারটি তুলে দেন। আগামী ১৭ নভেম্বর লন্ডন এর হোয়াইট হলে এই পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

ইত্তেফাক/এআই