বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ২১:৪৬

চিকিত্সাসেবা ব্যাহত

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম চলছে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী চাহিদামতো চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা যায়, হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে গত ২০১৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। ৫০ শয্যা অনুপাতে রোগীর ওষুধপথ্য সরবরাহ করা হলেও এখানে নেই পর্যাপ্ত জনবল। হাসপাতালটিতে ৯ ডাক্তারের পদ আছে। এর মধ্যে একজনের পদ শূন্য, অপর একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ডেপুটেশনে কর্মরত। বাকি ৭ জন এখানে আছেন; কিন্ত ৭ জনের মধ্যে ৪ জনই কনসালট্যান্ট পদের। তাদের ডিউটি সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত। ফলে হাসপাতালের সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ চালাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিত্সকদের।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৫ জন ইমার্জেন্সি ডাক্তার থাকতে হয়; কিন্ত এখানে একজনও নেই। এসময় বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ডাক্তার এনে জোড়াতালি দিয়ে জরুরি বিভাগ চালাতে হয় বলে তিনি জানান।

হাসপাতালে উপস্থিত বেশ কয়েকজন রোগী এ প্রতিবেদককে জানান, বড় কোনো কারণ ছাড়াই তাদের চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ প্রসঙ্গে ডা. শাখাওয়াত উল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে জরুরি ইনজেকশনের সরবরাহ তারা পান না। ফলে বাধ্য হয়ে জরুরি সমস্যাজনিত রোগীদের চমেক হাসপাতালে রেফার করতে হয়। হাসপাতলটিতে মাত্র একজন ওয়ার্ড বয় আছে, কোনো ফার্মাসিস্ট নেই, ফটিকছড়িতে ১২ জন ফার্মাসিস্টের মধ্যে আছে মাত্র ১ জন।

তাছাড়া, প্রতি বছর হাসপাতালটিতে ৬৭/৬৮ লাখ টাকার ওষুধ সরকার থেকে সরবরাহ করা হয়। এ বছর তা বাড়িয়ে ৮৬ লাখ টাকা করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবু রোগীরা ওষুধ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, রোগীরা ওষুধ না পাবার বিষয়টি সঠিক নয়। বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্যালাইনসহ অন্যান্য ট্যাবলেট রয়েছে, তবে ইনজেকশন পর্যাপ্ত নেই, এক্ষেত্রে কিছু ইনজেকশন রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। হাসপাতালটির বিরাজমান সমস্যা সম্পর্কে ইতিপূর্বে কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া হাসপাতালটির অবস্থান ফটিকছড়ি—হাটহাজারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় হওয়ার কারণে হাটহাজারীর তিনটি ইউনিয়ন থেকেও রোগীরা এখানে আসে। ফলে এখানে রোগীর চাপ সবসময় বেশি থাকে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৩০০ থেকে ৩৫০ রোগী চিকিত্সা নেয় বলে জানা যায়।

 

 

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পিল খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রাখছে কিশোরীরা, পাশে দাঁড়ালো সেনোরা

বিয়ে না করে সন্তান জন্মদান: কিশোর-কিশোরীর অভিভাবককে তলব

সম্রাটের জামিন বাতিলের আদেশ বহাল

বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ বিতর্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বঙ্গমাতা: তৃতীয় বিশ্বের এলিনর রুজেভেল্ট হলেও তাঁর অবদান আরও ব্যাপক 

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নার্সরাই হলো সামনের সারির যোদ্ধা: স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব 

বঙ্গমাতার জন্মদিনে টুঙ্গিপাড়ায় পুনাকের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট