রিফাত oikko.com.bd সেরাকণ্ঠ ২০২৩ সিজন-৭ এর একজন ফাইনালিস্ট। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নিতে চান এই প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী। কিছু সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
এখন কী করছেন প্রশ্নের উত্তরে রিফাত বলেন, বর্তমানে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরির পাশাপাশি গান আর সেরাকণ্ঠ নিয়ে খুব ব্যস্ত আছি। গ্র্যান্ড ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
প্রথম অনুপ্রেরণা কারা জানতে চাইলে বলেন, একেবারে ৪ বছর বয়সে দেখতাম আমার আশপাশের বয়সে বড়রা কুমার বিশ্বজিৎ স্যার, আইয়ুব বাচ্চু স্যার, শাফিন আহমেদ স্যার, বাপ্পা মজুমদার স্যারসহ আরও অনেকের ক্যাসেট কিনে আনতো। তাদের গায়কী, ফ্যাশনসেন্স আমাকে প্রচণ্ড প্রভাবিত করতো। শুনে শুনে তাদের গান তোলার চেষ্টা করতাম। এরপর আব্বু একটা হারমোনিয়াম কিনে দিলো অনেক আর্থিক সমস্যার মধ্যেও। আমি ৭ বছর বয়সে নিজে নিজেই হারমোনিয়ামের সাদা রিডগুলো দিয়ে প্রথম যে গান তুলেছিলাম তা হলো আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। সেটা দেখে আব্বু প্রথম গুরুজীর সান্নিধ্য দিলেন। উনার নাম ছিলো ধৃশনেন্দু হালদার। উনার কাছেই হাতেখড়ি। বর্তমানে শিখছি শ্রদ্ধেয় গুরু আবির দেবনাথের কাছে। তারা সবাই আমার অনুপ্রেরণা। সর্বদা তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।
বর্তমান সঙ্গীত সম্পর্কে মতামতে তিনি বলেন, আমি জানি যে খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, আর আবেগ চিরন্তন। অনেককেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চা করছে কিন্তু আমি অনুভব করি যে কোথাও মৌলিক বিষয়গুলো অনুপস্থিত। যেমন ধরুন, অটোটিউন অবশ্যই জরুরি তবে একটা গানের গভীরতা, আবেগ এবং অলংকারগুলো খুবই মৌলিক ব্যাপার যেগুলো নিয়ে চিন্তা করা, বিশ্লেষণ করাটা বাধ্যতামূলক। অটোটিউন কখনোই এগুলো কণ্ঠ থেকে বের করে আনতে পারে না,পারবেও না। এগুলোর জন্য জীবন যন্ত্রণাবোধ থাকা জরুরি। জীবন আর প্রকৃতির উপাদানই দিনশেষে কণ্ঠে বের হয়ে আসে। এর জন্য ভালো এবং গুণী শিল্পীর গান শোনা আবশ্যক। মৌলিকত্ব ক্ষয় করা চলবে না।
সেরাকণ্ঠ শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বলেন, মিউজিক কম্পোজিশন প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ আছে। সেরাকন্ঠেরই সৃষ্টি আমাদের সবার প্রিয় আর জনপ্রিয় ইমরান মাহমুদুল ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চাই। ইচ্ছা আছে রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার। আমার গান ১০০ জন শুনুক সেটা জরুরি নয়। আমি চাই ১০ জনও যদি আমার গান শোনে, সেটা শোনার যেন পরবর্তীতে তারা বার বার ফিরে ফিরে আসে। আমি শ্রেষ্ঠত্ব চাই না, অমরত্ব চাই।
সেরাকণ্ঠে সবচেয়ে অবিস্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি জানতে চাইলে বলেন, রুনা লায়লা ম্যামের কাছে কারও গান অনেক বেশি ভালো লেগে গেলে উনি সুর দিয়ে খুব সুন্দর করে ‘ফাটাফাটি’ বলেন। সেটা পেয়েছি সুপার রাউন্ড আর সেমিফাইনালে। এ ছাড়া, বিশেষভাবে আমার গলার আওয়াজের একটা প্রশংসা বারবার করেছেন সেটা হলো আমার গলা উদারায় যেভাবে যায়, তারা-তেও সেভাবেই যায় আর তিনটা অক্টেভেই ভলিউম একরকম থাকে, যেটা উনি বলেছিলেন খুব কঠিন ব্যাপার। আরেকটি ব্যাপার আজীবন মনে থাকবে সেটা হলো উনি বলেছিলেন, যে আমার গলার সাথে কিংবদন্তী ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতজ্ঞ এসপি বালা সুব্রামানিয়ামের গলার আওয়াজের সদৃশ রয়েছে। এ ছাড়াও, শ্রদ্ধেয় সামিনা চৌধুরী ম্যামের থেকে পাওয়া দুটি স্ট্যান্ডিং ওভেশন তো আছেই। তাছাড়া, সামিনা ম্যাম সেমিফাইনালে আমার গাওয়া ‘আয়নাতে ওই মুখ’ গানটির জন্যই আমার অনুরোধে গালে তিল এঁকে এসেছিলেন যেটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া এবারের সিজনে।

