সারাদেশে ৫২৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘায় একটি। আর সেটি হলো প্রায় ৫শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ। এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন দেশের দূর-দুরান্ত থেকে অগণিত মুসল্লিরা। তাদের জন্য এবার নির্মাণ করা হচ্ছে একটি অত্যাধুনিক অজুখানা। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা।
ইতিমধ্যে রাজশাহী জেলা পরিষদের দেওয়া ২০ লাখ টাকা অনুদানে আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অতঃপর (১৯ অক্টবর) বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার ও উপজেলা প্রকৌশলীর হাতে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাদের মাধ্যমে নিজেস্ব তহবিল থেকে ২৫ লাখ টাকার একটি চেক হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করবেন মসজিদ কমিটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, জাতিসত্ত্বা বিকাশের সুদীর্ঘ পথ-পরিক্রমা উদঘাটনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এই সব নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম বাঘা শাহী মসজিদ। প্রায় ৫ শ’ বছর পূর্বে সুলতান আমলে নির্মাণ করা হয় এ মসজিদ। এই মসজিদের ছবি রয়েছে দেশীয় ৫০ টাকার নোটে। এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন দূর-দুরান্ত থেকে হাজার-হাজার মানুষ। তাদেরকে আকৃষ্ট করাসহ মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনে এর প্রবেশ দ্বারের পূর্ব প্রান্তে এবার নির্মাণ করা হচ্ছে একটি ছায়া নিবিড় ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের অত্যাধুনিক অজুখানা। গত ২১ অক্টোবর এই কাজটির শুভ উদ্বোধন করেন তিন তিন বারের নির্বাচিত চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য ও দুই বারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বাঘায় এলে এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য মুসল্লিদের কাছে দোয়া চান।
বাঘা শাহী মসজিদের ইমাম আশরাফ আলী বলেন, দান-খয়রাত প্রকাশ্যেও করা যায়, আবার গোপনেও করা যায়। তবে আল্লাহতাআলা বলেছেন, যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো, তবে সেটা উত্তম। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ হিসাবে এখানে একটা সুন্দর অজুখানার দাবি ছিল মুসল্লিদের। এদিক থেকে এই চাওয়াটি পূর্ণ করতে চলেছেন বাঘাবাসীর প্রিয় নেতা ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি উদ্যোগ না নিলে এ কাজটি করা সম্ভব হতো না। একজন মুসলমান ইবাদত করে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করবেন- এটাই স্বাভাবিক। আর ঈমানদারের জন্য পুরস্কার হিসেবে রয়েছে জান্নাত।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, অতীতে চারঘাট-বাঘা থেকে অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। তবে বর্তমান সংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মতো ত্যাগী ও দানশীল নেতা আমরা কখনোই পায়নি। তিনি শুধু মসজিদের অজুখানা নয়, ইতিমধ্যে জমি কিনে দলীয় কার্যালয় স্থাপন, দুটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং মা ও শিশু হাসপাতার কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জমিদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৫শ বছরের পুরনো সুলতানি আমলের এই নিদর্শনটি দেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। মসজিদটি ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় । দর্শনার্থীদের কাছে সমাদৃত ১০ গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদের ছবি রয়েছে বাংলাদেলে ৫০ টাকা নোটে।
প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দর্শনীয় শাহী মসজিদ, সুবিশাল দীঘি, প্রায় তিনশ বছর পূর্বে মুঘল আমলে নির্মিত নারীদের মসজিদ এবং গত প্রায় ৭ বছর আগে মুসলিম স্থাপত্তের নিদর্শন স্বরূপ মাজারের জমিতে সরকারি অর্থায়নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এই মাজারের জমিতে রয়েছে হযরত শাহদৌলাসহ তার সফরসঙ্গী বেশ কয়েকজন আউলিয়ার সমাধি। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৮-১০ ফুট উঁচু একটি বেদির উপরে এ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। এর দুপাশ দিয়ে দুটি বিশাল গেট রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে, তৎকালীন বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যকে টেরাকোটা তথা পোড়ামাটির কারুকাজের দেশজ নিদর্শন দিয়ে শাপলা ও লতাপাতাসহ এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ছবি সম্বলিত পার্সিয়ান খোদাই শিল্পে ব্যবহৃত হাজার রকম কারুকাজ। যা দেখলে সকলের নজর কাড়ে।

