বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

মেক্সিকোতে রহস্যে ঘেরা ভয়ংকর পুতুলের দ্বীপ

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৩, ১৩:২৯

মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলায় রয়েছে ভয়ংকর এক ‘পুতুল দ্বীপ’। চারদিক জুড়ে নীল জলরাশির মাঝে সবুজে ঘেরা এই দ্বীপ। ইংরেজিতে একে ‘দ্য আইল্যান্ড অব ডেথ ডলস’ বলা হয়। দূর থেকে দেখলে নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মন ভরে যাবে। অথচ কাছে গেলেই গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। কারণ দ্বীপের প্রতিটা গাছে ঝুলছে বীভৎস চেহারার সব পুতুল।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এর প্রতিবেদন অনুসারে, একটি অল্প বয়সী মেয়ের আত্মা নাকি এই দ্বীপে রয়েছে। মেয়েটিকে জোচিমিলকোর খালের গভীরে লুকানো একটি ছোট দ্বীপে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর পর থেকেই ছোট মেয়েটির আত্না এই দ্বীপে রয়ে গেছে। 

পুতুল দ্বীপের একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন ডন জুলিয়ান সান্তানা ব্যারেরা। স্ত্রী এবং পরিবার থাকা সত্ত্বেও তিনি এখানে বসবাস করতেন। ডন জুলিয়ান দাবি করেন যে, তিনি এই দ্বীপে বসবাসের সময় একটি মেয়ের চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন। তার মতে ‘আমি আমার পুতুল চাই’ বলে মেয়েটি নাকি চিৎকার করতে থাকত। এর পরে, তিনি একটি পুতুল খুঁজে পান। পুতুলটিকে তিনি মেয়েটির আত্নাকে উপহার হিসেবে দিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য, পুতুলটিকে তিনি একটি গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এরপর এক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপের চারপাশে আরও পুতুল ঝুলতে শুরু করে। ডন জুলিয়ান এ সব পুতুল গাছে ঝুলিয়ে রাখতে শুরু করেছিলেন। তিনি  বিশ্বাস করেছিলেন যে, এটি নিজেকে অশুভ আত্মা থেকে রক্ষা করবে। তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ পুতুলেরই শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল না। কোনটির হাত-পা নেই,  আবার কিছু পুতুলের মাথাও নেই! ডন জুলিয়ান  পুতুলগুলো পরিষ্কার বা ঠিক করার চেষ্টা করেননি। বরং সেগুলি যেমন আছে তেমনই রেখেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল, সময়ের সাথে সাথে এগুলো পচে যেত। এরপর একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করত। 

ডন জুলিয়ান এই দ্বীপে প্রায় ৫০ বছর বসবাস করেছিলেন। ২০০১ সালে ডন জুলিয়ানের রহস্যজনকভাবে মৃত্য হয়। এই দ্বীপের পানিতেই তাকে ডুবে থাকতে দেখা গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে তিনি সর্বদা বলেছিলেন যে, তিনি ছোট্ট মেয়েটিকে দেখেছেন। পরবর্তীকালে জুলিয়ানের পরিবার এইসব বিষয় অস্বীকার করে জানায়, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না।

প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে মেক্সিকান সরকার ১৯৯০ সালে এই দ্বীপটিকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ ঘোষণা করে এবং দ্বীপটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন এলাকা বানানোর উদ্যোগ নেয়। তবে বর্তমানে সারা বছরে খুব বেশি পর্যটক এই দ্বীপে আসেন না। পর্যটকরা কদাকার পুতুল দেখে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখেন এই অজুহাতে দ্বীপটিতে যেতে ভয় পান। আর সেখানে পর্যটকেরা গেলে এখনো সাথে করে পুতুল নিয়ে যান এবং টাঙিয়ে দেন দ্বীপের কোনো এক জায়গায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ইত্তেফাক/জিজে/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন