ট্যাক্স-ডু: সহজ ও নির্ভূলভাবে ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করার বেসিস আইসিটি পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিজিটাল প্রযুক্তি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ২০:০৩

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাংলাদেশেকরনীতি প্রণয়ন, কর আদায় এবং কর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানের জন্য সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ নির্মাণে সরকারের মূল আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে এনবিআর অনলাইনে ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার জন্য উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করার প্রক্রিয়াটিকে সহজ করা, এটিকে আরও সুবিধাজনক এবং ব্যবহারকারীবান্ধব করে করদাতাদের জন্য সম্ভাব্য বাধাগুলো হ্রাস করা।

আয়কর রিটার্ন জমাদানকে আরও ব্যবহারকারীবান্ধব করার জন্য এনবিআরের লক্ষ্য পূরণ করতে এবং একটি স্মার্টজাতি হওয়ার পথে বাংলাদেশের যাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, দেশের কর সংস্কৃতিকে উন্নত করার জন্য পরিপূর্ণ ট্যাক্স ফাইলিং সফ্টওয়্যার বাস্তবায়ন একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

একটি ডিজিটাল ট্যাক্স-ফাইলিং অ্যাপ্লিকেশন শুধু করদাতাদের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জগুলোই দূর করে না বরং স্মার্ট বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং দক্ষ গভর্নেন্স মডেলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও অনুরণিত হয়।

আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে একটি স্মার্ট সল্যুশন তৈরি করতে, এসএমএসি আইটি লিমিটিড ট্যাক্স-ডু (TAXdo) নামের একটি সফটওয়্যার চালু করেছে। এটি ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন তৈরির জন্য একটি সামগ্রিক সমাধান, যা রিটার্ন ফাইলিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মানদণ্ডে ২০২২ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেছে।

ট্যাক্স-ডু ব্যক্তিগত করদাতা, আয়কর আইনজীবী এবং আইনি পেশাদারদের ট্যাক্স গণনা এবং নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করে। শুধুমাত্র কর্মসংস্থান থেকে আয় করে এমন ব্যক্তিদের জন্য, ট্যাক্স-ডু তে একটি সম্পূর্ণ আয়কর রিটার্ন পূরণ করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে যা আয়কর রিটার্নপূরণ প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। এটি ব্যবহার করার জন্য ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর আইন সম্পর্কে জ্ঞান বা রিটার্ন প্রস্তুত করার প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। কর্মসংস্থান, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা, মূলধন লাভ, আর্থিক সম্পদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আয়সহ ব্যক্তিদের জন্য জটিল ট্যাক্স গণনা নিঁখুতভাবে পরিচালনা করার জন্য প্ল্যাটফর্মটি সুসজ্জিত।

ট্যাক্স-ডু এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতির জন্য কোনো ম্যানুয়াল এক্সেল ফাইল প্রয়োজন হয় না। ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের আয় সফটওয়্যারে ইনপুট করে এবং ট্যাক্স-ডু স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর গণনা করে। এটি একটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড সিস্টেম, যা ইনপুটের ভিত্তিতে যে কাউকে আইন মোতাবেক সহজেই আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করে দেয়। একজন করদাতাকে শুধুমাত্র প্রথমবার করদাতা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করতে হয়, যাতে এসব ব্যক্তিগত তথ্য পরবর্তী বছরগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করে করদাতাদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারে এবং রিটার্ন প্রস্তুত করার অভিজ্ঞতা ঝামেলাবিহীন হয়। ট্যাক্স-ডু অটোমেশনের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে।

উপরন্তু, এটি তাৎক্ষণিকভাবে করের অনুমান গণনা করে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত প্রক্রিয়াকে সহজ করে। ট্যাক্স-ডু ত্রুটি-মুক্ত ট্যাক্স গণনা নিশ্চিত করে ব্যবহারকারীদের সময় এবং অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করে। ব্যবহারকারীরা সহজেই যেকোনো সময় ট্যাক্স-ডু থেকে তাদের তথ্য ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারেন। এটি ব্যবহার করার জন্য কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন হয় না। এটি একটি ক্লাউড-ভিত্তিকওয়েব অ্যাপ্লিকেশন প্লাটফরম যা সুরক্ষিত এবং সহজেই যে কোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে ট্যাক্স-ডু (TAXdo) এর ওয়েব ঠিকানা https://apps.taxdo.smac-it.com তে গিয়ে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে জারি করা পর্যায়ক্রমিক আপডেটের ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত ট্যাক্স-ডু আপডেট করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত গণনাগুলি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় কর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করা হয়। এর ব্যবহারকারীবান্ধব ইউজার ইন্টারফেস এবং ত্রুটিহীন নথি ব্যবস্থাপনার অসামান্য ক্ষমতার কারণে, ট্যাক্স-ডু স্মার্ট, বুদ্ধিমান এবং দক্ষ কর সহায়তার জন্য নতুন মান হিসাবে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয় দক্ষ প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে তৈরি এসএমএসি আইটি লিমিটিডের এই অ্যাপ্লিকেশন জনমানুষের প্রয়োজন পূরণে একটি কার্যকর উদ্ভাবনী সমাধান। 

এসএমএসি আইটি লিমিটিডের পরিচালক স্নেহাশিষ বড়ুয়া এফসিএ ট্যাক্স-ডু এর উপযোগিতা ও প্রভাব ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা ট্যাক্স-ডু অ্যাপ চালু করতে পেরে আনন্দিত, যা আয়কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করার জন্য এবং ব্যক্তি করদাতাদের ব্যবহারকারীবান্ধব অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আমাদের এই প্রচেষ্টা স্বতন্ত্র করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকেই শুধু উন্নত করে না বরং বিস্তৃত রাজস্ব সংগ্রহ অর্জনে এবং সকলের কাছ থেকে সঠিক আয়কর রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তথা বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করার বৃহত্তর উদ্দেশ্যেকেও সমর্থন করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে আমাদের সফটওয়্যারটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট কর গণনা ও ব্যবস্থাপনার একটি ভালো উদাহরণ হবে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জনগণের জন্য যা অনায়াসে অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি করবে। এরকম স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আয়কর রিটার্ন দাখিল করার প্রবণতাকে উৎসাহিত করবে যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ইত্তেফাক/পিও