তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়ক বেহাল, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:৩৯

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের উপর থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সড়ক ভেঙে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, সড়কের একটি কালভার্ট একেবারে ভেঙে পড়ায় তাড়াশ ও গুরুদাসপুর উপজেলার বহু মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
 
এদিকে আরও একটি কালভার্ট থেকে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ভুক্তভোগী লোকজন পানির নিচ থেকে সড়কের ভাঙা টুকরো তুলে ও ইটের খোয়া ফেলে কালভার্টের একপাশ দিয়ে চলাচল করছেন বলে জানিয়েছেন।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়ক পথের কুন্দইল গ্রামের পশ্চিমের কালভার্টটি ভেঙে চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে গেছে। ফলে উজানের বিস্তীর্ণ মাঠের অনাবাদী জমিতে পানি আটকে রয়েছে। কুন্দইল গ্রাম এলাকার আরেকটি কালভার্ট অংশের সেতুর মারাত্মক ভঙ্গুর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লোকজন ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিএনজি, ভটভটিসহ ধীরগতির যানবাহন। দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যেকোনো সময়ে। সড়কের মাঝের ভাঙা যায়গাগুলোতে কচুরিপানা দিয়ে ভরাট করে যাতায়াত করছেন বাধ্য হয়ে। 

জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের আওতায় চলনবিলের মধ্য দিয়ে তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়ক নির্মাণ করা হয়। এরই মধ্যে সড়কটির বেশ কিছু জায়গা ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সংস্কার করা হয়নি। 

গুরুদাসপুর উপজেলার সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম, ভটভটি চালক আব্দুল কাদের, তাড়াশের সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা শ্যামল হোসেন, শিপন আলী, জাকার হোসেন ও খাদিজাতুল কুবরাসহ ভুক্তভোগী অনেকে বলেন, চলনবিলের মধ্য দিয়ে তাড়াশ উপজেলা ও গুরুদাসপুর উপজেলার মানুষের সহজ চলাচলের মাধ্যম তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রি সড়ক। সারাদিন ও রাতভর হাজারও মানুষ চলাচল করেন এ সড়কে। কিন্তু নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন না ভাঙা সড়ক দিয়ে। এলাকার কৃষিপণ্য বেচায় অতিরিক্ত যানবাহন খরচ গুণতে হচ্ছে কৃষকদের।
  
সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্ট বলেন, গত বছর বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের কুন্দইল গ্রাম এলাকার দুইটি কালভার্টে ইট-সুরকী ফেলে লোকজন চলাচলের সুবিধা করে দিয়েছিলাম। এবারেও করে দেবেন। কিন্তু সড়ক জুড়ে সংস্কার কাজের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।


 
উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, জিওবি মেইনটেইন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের সংস্কার কাজ করা হবে। টেন্ডার হয়ে গেছে।
 
সিরাজগঞ্জ-৩ তাড়াশ-রায়গঞ্জ-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। লোকজনের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে এ বছর ডিসেম্বর মাসে তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। 

ইত্তেফাক/পিও